জাতীয় সংসদ নির্বাচন দুয়ারে কড়া নাড়ছে। বরগুনার মূল ভূখণ্ডে যখন প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে থাকলেও বিষখালী নদীর বুকে জেগে ওঠা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ‘মাঝেরচরে’ নেই কোনও নির্বাচনি উত্তাপ, নেই পোস্টার-ব্যানার, এমনকি এখন পর্যন্ত কোনও প্রার্থীর পা পড়েনি এ দুর্গম চরে।
বরগুনা সদর উপজেলার গুলিশাখালী ও পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত এই মাঝেরচর। প্রায় ৩ হাজার মানুষের বসবাস এখানে। জেলায় সবজি ও মাছের সিংহভাগ সরবরাহ আসে উর্বর এই চর থেকেই। অথচ যাতায়াতসহ বিভিন্ন নাগরিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন এখানকার বাসিন্দারা। যাতায়াতের একমাত্র বাহন নৌকা ও ট্রলার, যা মূল ভূখণ্ড থেকে তাদের অনেকটাই বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কেবল এবারই নয়, কোনো জাতীয় নির্বাচনেই প্রার্থীদের দেখা পান না তারা। নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো এই মানুষগুলোর কাছে ভোট মানে কেবলই এক আনুষ্ঠানিকতা, যেখানে নেই কোনো প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি বা উন্নয়নের আশ্বাস। আধুনিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই জনপদটি ইউনিয়ন পরিষদের সেবা থেকেও অনেকটা দূরে।
বরগুনা-১ আসনে ৪ জন এবং বরগুনা-২ আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও, দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার অজুহাতে মাঝেরচরের ভোটারদের দ্বারে কেউ ভোট চাইতে যাননি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও।
বরগুনা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল এবং সুজনের জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের মনে করেন, ভোটের সময় এমন একটি জনপদকে উপেক্ষা করা হতাশাজনক। অবহেলিত এই জনপদের মানুষের কথা শোনার বা তাদের আশ্বস্ত করার কেউ নেই, যা নাগরিক অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
প্রার্থীদের বিরামহীন প্রচারণায় যখন মুখর বরগুনার অন্যান্য এলাকা, তখন মাঝেরচরের বাসিন্দারা কেবল দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন।
ডিবিসি/এএমটি