২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বরগুনা শহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের একটি মিছিলের ছবি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ঘটনার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দাবি করা হয়, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে তাঁরা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করেন।
মিছিলে নেতৃত্ব দেন বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ফাহাদ হাসান (তানিম) ও বরগুনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম (ফাহাদ)। সকাল পৌনে ৯টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের হয়। শহরের বেশ কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সকাল ৯টায় শহরের রাসেল স্কয়ারে গিয়ে মিছিল শেষ হয়। এতে ছাত্রলীগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অর্ধ শতাধিক নেতা–কর্মী অংশ নেন।
মিছিল শেষে এক ভিডিও বার্তায় ফাহাদ হাসান বলেন, ‘দেশের সংকটময় মুহূর্তে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। তাই দেশের ও মানুষের স্বার্থে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে জেলা ছাত্রলীগ বদ্ধপরিকর।'
এর আগে গত ২২ মার্চ বেতাগী উপজেলায় ছাত্রলীগের উদ্যোগে ‘ঈদ পুনর্মিলনী’র আয়োজন করা হয়। সেখানেও সংগঠনটির কয়েক শ নেতা-কর্মী অংশ নেন।
বৃহস্পতিবারের মিছিলের বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ূন হাসান শাহীন সাংবাদিকদের জানান, ‘ছাত্রলীগ এভাবে প্রকাশ্যে কার্যক্রম চালানোর পেছনে প্রশাসন তাদের সহযোগিতা করেছে বলে আমরা মনে করি। বরগুনা–১ আসনে যে এমপি রয়েছেন, তাঁরও প্রচ্ছন্নতায় আওয়ামী লীগ পুনর্গঠিত হচ্ছে-এমনটাই রিপোর্ট আসছে আমাদের কাছে। বিএনপি একটি সর্ববৃহৎ দল, সে জন্যই আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারি না। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যবস্থা নেবে পুলিশ প্রশাসন।’
বরগুনা সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল আলিম বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রলীগের যে মিছিল দেখা যাচ্ছে, সেই ভিডিও দু-তিন দিন আগে ধারণ করা। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আজ তারা এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
ডিবিসি/এসএফএল