বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের আলোচিত ঘটনায় ইউএনও ও পুলিশের মামলায় দ্বিতীয় দফায় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন আওয়ামী লীগের ১২ নেতাকর্মী।
আজ বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তারা। কারা ফটকে তাদের স্বাগত জানান মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর এবং সহসভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু ও গাজী নাঈমুল হোসেন লিটুসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
এর আগে আসামি পক্ষের জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দুই মামলায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মাসুম বিল্লাহ।
আদালত চত্ত্বরে দুপুরে আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস জানান, আদালত পৃথক মামলায় পুলিশ প্রতিবেদন জমা দেয়ার আগ পর্যন্ত জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম মাসউদ বাবলু ও (আসামি পক্ষের আইনজীবী) সাবেক সভাপতি তালুকদার মো. ইউনুসের জিন্মায় ১০ হাজার টাকার বন্ডে ১২ জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতের আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
ইউএনও’র মামলায় মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন: মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু, মো. অলিউল্লাহ, মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন ফিরোজ, লিটন ঘোষ, রাকিবুল ইসলাম রাকিব, শুভ হাওলাদার, শুভ সাহা, সদর উপজেলার কড়াপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ শাহরয়ার বাবু, শাহিনুর ইসলাম শাহিন ও হারুনর রশিদ।
পুলিশের মামলায় এই ১০ জন ছাড়াও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ সাঈদ আহমেদ মান্না এবং মিরাজ গাজী নামে দুইজন কারামুক্তি পেয়েছেন।
এর আগে, একই আদালতের আদেশে গত ২৫ আগস্ট এই দুই মামলায় প্রথম দফায় আওয়ামী লীগের আরো ৯ জন নেতাকর্মী কারাগার থেকে মুক্তি পান।
উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট রাতে বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে তুলকালাম কাণ্ডের ঘটনায় পরদিন ইউএনও এবং পুলিশ বাদী হয়ে সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ সহ আওয়ামী লীগের ৬০২ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন কোতয়ালী মডেল থানায়। দুই মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত ২৩ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে চোখে গুলিবিদ্ধ তানভীর হাসান এবং মনিরুজ্জামান মনির নামে দুই আসামি গ্রেপ্তার অবস্থায় ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওই ২ জন বাদে বরিশাল কারাগারে থাকা ২১ আসামির মধ্যে গত ২৫ আগস্ট ৯ জন এবং সব শেষ আজ আরও ১২ জন নেতাকর্মী মুক্তি পেয়েছেন।