বরিশালে এক কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে আলমগীর সিকদার (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এছাড়া ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণ ও পড়াশোনার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার রাষ্ট্রকে বহনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আশরাফ উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আলমগীর সিকদার বরিশালের উজিরপুর উপজেলার পূর্ব কেশবকাঠী গ্রামের মৃত আবদুর রশিদ সিকদারের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফয়সাল হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবার দূরসম্পর্কের মামাতো ভাই হওয়ার সুবাদে আলমগীর সিকদারের বাড়িতে মেয়েটির নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এই পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ২০২২ সালের শেষের দিকে একদিন বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে আলমগীর ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২২ মার্চ দ্বিতীয় দফায় একই কিশোরীকে আবারও ধর্ষণ করেন তিনি। কিছুদিন পর মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে পরিবারকে ধর্ষণের বিষয়টি খুলে বলে।
এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২১ মে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ মে উজিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম একমাত্র আসামি আলমগীর সিকদারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আদালত দীর্ঘ শুনানিতে মোট ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রমাণাদি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে আসামি আলমগীর সিকদারকে দোষী সাব্যস্ত করেন। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন। একই সঙ্গে রায়ে ভুক্তভোগীর গর্ভে জন্ম নেওয়া শিশুর বয়স ২১ বছর হওয়া পর্যন্ত তার শিক্ষা ও জীবনধারণের যাবতীয় খরচ রাষ্ট্রকে বহনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা। তিনি দ্রুত এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়ে বলেন, ধর্ষণের শিকার হয়ে আমার মেয়ে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে শিশুটির বয়স প্রায় তিন বছর। মেয়ে আর নাতি এখন আমার কাছেই থাকে। আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি, এখন দ্রুত ফাঁসি কার্যকর দেখতে চাই।
ডিবিসি/এসএফএল