‘যত বই, তত প্রাণ’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৩৫তম নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা। সিটির জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে চার দিনব্যাপী আয়োজিত এই মেলায় প্রবাসী বাঙালি বইপ্রেমীদের ঢল নেমেছিল।
নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নেওয়ার পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখকদের সান্নিধ্য পাওয়ার এই সুযোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন আমেরিকান-বাংলাদেশিরা।
বাংলাদেশ ও কলকাতার বাইরে বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে বড় এই উৎসবটি বিগত প্রায় তিন দশক ধরে প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে উজ্জীবিত রাখছে।
এ বছর মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। আমন্ত্রিত অতিথি, লেখক ও প্রকাশকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি মেলার দ্বার উন্মোচন করেন। উদ্বোধন উপলক্ষে মেলার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। গান ও নৃত্যের নান্দনিক পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হয় চার দিনের এই সাহিত্য উৎসব।
বাংলা সাহিত্যের তিন দিকপাল-মহাশ্বেতা দেবী, তপন রায়চৌধুরী ও শামসুদ্দীন আবুল কালামের স্মরণে মেলায় প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে ৩৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয় মঙ্গল প্রদীপ। মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ ও মেলার আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের পর প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহান। অনুষ্ঠানে তার হাতে ‘আজীবন সম্মাননা’ তুলে দেওয়া হয়।
এবারের মেলায় বাংলাদেশ থেকে ২৫টি প্রকাশনী সংস্থা প্রায় ১০ হাজার বই নিয়ে অংশ নেয়। বিখ্যাত সব প্রকাশনীর বইয়ের পাশাপাশি মেলায় পাঠকদের মূল আকর্ষণ ছিল জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন ও কবি-উপন্যাসিক সাদাত হোসাইনসহ অন্যান্য প্রিয় লেখকদের সাথে সরাসরি আলাপচারিতা ও অটোগ্রাফ নেওয়ার সুযোগ।
মেলার দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে বৃষ্টি হানা দিলেও তা বইপ্রেমীদের উত্সাহে বাধা হতে পারেনি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করেই পাঠকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। সোমবার মেলার শেষ দিনে লেখক ও পাঠকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। শুধু নিউইয়র্কই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকেও দলে দলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই মেলায় যোগ দিতে আসেন।
বহিরঙ্গনে বইমেলার পাশাপাশি সেন্টারের মূল মিলনায়তনে চার দিনজুড়েই ছিল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন। গান, কবিতা আবৃত্তি, বিতর্ক, সেমিনার ও নাটক পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ, বাংলা সাহিত্য এবং প্রবাস জীবনের নানা অনুষঙ্গ দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়।
এ বছর বাংলা সাহিত্যে অনবদ্য অবদানের জন্য মুক্তধারা-জেএফবি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেছেন ড. আব্দুন নুর। অন্যদিকে সেরা প্রকাশনা হিসেবে চিত্তরঞ্জন সাহা সেরা প্রকাশনা পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনা সংস্থা বাতিঘর।
মেলার আয়োজক মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিৎ সাহা এবং চেয়ারম্যান ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানান, আগামী বছর মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলার তিন যুগ (৩৬ বছর) পূর্তি হবে। এই বিশেষ মাইলফলককে সামনে রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেছেন তারা। মেলার শেষ দিনে ঘোষণা করা হয়, আগামী বছরের ২১ থেকে ২৪ মে নিউইয়র্কের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারেই মেলার তিন যুগ পূর্তি উৎসব সাড়ম্বরে উদযাপন করা হবে।
ডিবিসি/এসএফএল