আন্তর্জাতিক, ভারত, পাকিস্তান

বলিউড সিনেমা বানিয়ে যুদ্ধের পরাজয় মুছতে পারবে না ভারত: পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

মঙ্গলবার ১৮ই আগস্ট ২০২৬ ০১:৪২:১৩ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-কে সামরিক সাফল্য হিসেবে দাবি করে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সোমবার (১৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বলিউড সিনেমার মতো নাটকীয়ভাবে ঘটনা উপস্থাপন করে ভারত তাদের সামরিক ব্যর্থতাকে সাফল্য হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ভারত এমন কোনো হামলা চালালে তার ‘দৃঢ়, চূড়ান্ত ও অসমানুপাতিক’ জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তান।
 

আইএসপিআর-এর দাবি, ভারতীয় কনটেন্ট নির্মাতাদের তৈরি তথ্যচিত্রটি অতিরিক্ত নাটকীয়, অতিরঞ্জিত এবং তথ্যগতভাবে ভুল। এতে গভীরতা ও ভারসাম্যের এতটাই অভাব যে, এটিকে একই সঙ্গে ‘ট্র্যাজেডি ও কমেডি’ বলা যেতে পারে। নির্বাচিত সাক্ষাৎকার এবং আবেগময় বর্ণনার মাধ্যমে ভারত ইতিহাসকে নিজেদের সুবিধামতো সাজানোর চেষ্টা করেছে। পাকিস্তানের মতে, ‘মার্কা-ই-হক’ সংঘর্ষের এক বছরের বেশি সময় পার হলেও ভারত পরাজয় স্বীকার না করে নিজেদের মতো করে একটি নতুন বয়ান তৈরির চেষ্টা করছে।

 

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তথ্যচিত্রটিতে থাকা বিভিন্ন বক্তব্যের মৌলিক অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরেছে। তাদের ভাষ্যমতে, ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের একটি বক্তব্যের সঙ্গে ২২ এপ্রিলের পেহেলগাম হামলার ভিত্তিহীন যোগসূত্র টানা হয়েছে। ভারত দাবি করেছিল, পেহেলগাম হামলার তিন অভিযুক্তকে ২৮ জুলাই হত্যা করা হয়েছে। তাই পাকিস্তানের প্রশ্ন, কথিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ৮২ দিন পর যদি অভিযুক্তদের হত্যা করা হয়, তবে ৭ মে ভারত কাদের শাস্তি দেওয়ার দাবি করছে?

 

তথ্যচিত্রে ‘১০০ শতাংশ মিশন সফল’ হওয়ার দাবির সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। পাকিস্তানের দাবি, সংঘর্ষের সময় তারা ভারতের আটটি সামরিক বিমান ভূপাতিত করেছিল। এরপর পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনিয়ান-উন-মারসুস’ পরিচালনা করে, যেখানে ফাতাহ প্রিসিশন-গাইডেড রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার লইটারিং মিউনিশন ও কামান ব্যবহার করে ভারতের ২৬টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। তথ্যচিত্রে ভারতীয় সামরিক নেতৃত্বের এসব হামলার কথা স্বীকার করে নেওয়া এবং নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার বিষয়টি ভারতের নিরঙ্কুশ আধিপত্যের দাবিকেই দুর্বল করে দেয়।

 

যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিয়েও ভারতের দাবি নাকচ করেছে পাকিস্তান। আইএসপিআরের মতে, দুই দেশের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনসের (ডিজিএমও) যোগাযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, এটি ভারতের একতরফা কোনো বিজয় ছিল না। তথ্যচিত্রে একদিকে ভূখণ্ডের গভীরে নিখুঁত হামলা এবং অন্যদিকে সংঘাত ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত রাখার যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা একে একটি পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা হিসেবেই প্রমাণ করে। পরিশেষে, আঞ্চলিক শান্তির প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

 

প্রসঙ্গগত, ২০২৫ সালের মে মাসে কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার জেরে ৭ মে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু হয়। এর জবাবে পাকিস্তানও ভারতে পাল্টা ব্যাপক হামলা চালায়। পরবর্তীতে ১০ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলে চার দিন ধরে চলা এই সংঘাতের অবসান ঘটে।

 

সূত্র: জিও নিউজ

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন