বাংলাদেশ, জাতীয়

বসন্ত আর ভালোবাসা মিলছে একই দিনে

হ্যাপী মাহমুদ

ডিবিসি নিউজ

সোমবার ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২২ ০২:০৫:৫৬ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

শীত প্রায় শেষের দিকে। গাছে গাছে পলাশ ও আমের মুকুলের আগমনে প্রকৃতি বলছে, বসন্ত এসে গেছে। গত বারের মতো এবারও বাঙালি বসন্ত উৎযাপন করবে ১৪ই ফেব্রুয়ারি।

বদলে গেছে বাংলা বর্ষপঞ্জি। নতুন সংশোধিত বর্ষপঞ্জিতে পহেলা ফাল্গুন অর্থাৎ বসন্তের প্রথম দিনেই হচ্ছে ভালোবাসা দিবস। ইংরেজি বর্ষপঞ্জির ১৪ই ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করা হয় সারা বিশ্বে।

একই সাঙ্গে আজ পহেলা ফাল্গুন। বসন্তের প্রথম দিন। প্রকৃতির এই পরিবর্তন বাঙালির হৃদয়ে এনেছে নতুন প্রাণের স্পন্দন। করোনাভাইরাস মহামারির এই সময়েও বসন্ত বরণে কারোরই প্রস্তুতির কমতি নেই। 

শীতের রুক্ষতা শেষে ঝরা বৃক্ষে নতুন পাতা, গাছে গাছে ফুল, আর পাখিদের কলতান জানান দিচ্ছে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী বার্তা। শিমুল, পলাশ আর বাহারি ফুলের মেলা সহাস্যে জানাচ্ছে বাসন্তী অভিবাদন। 

বাঙালি শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতিতে জুড়ে আছে বসন্ত প্রেমের বন্দনা। ভালোবাসার ঋতু বলেও বসন্ত মিশে আছে বাঙালির প্রেমে আবেগে। প্রিয় মানুষের খোঁপায় ফুল গুঁজে দিয়ে যেন বসন্তকে স্বাগত জানাচ্ছে তরুণ-তরুণীরা। এদিকে বাহারি ফুলের পসরা সাজিয়ে বসেছে বিক্রেতারা। 

করোনাভাইরাস মহামারি বসন্ত উদযাপনকে অতটা ম্লান করতে পারেনি। নতুন বসন্তে স্বাস্থ্যবিধি বালাই না থাকুক। করোনা ঝড় থেকে স্বস্তি ফিরুক সবার জীবনে, এমনটাই আশা। 

কবি বলেছেন, আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে, তব অবগুণ্ঠিত কুন্ঠিত জীবনে, কোরো না বিড়ম্বিত তারে। বাঙালির ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ুক নব বসন্তের আবেশ। এই বসন্তেই অবসান হোক বিষাদের মহামারী। নতুন আশার সঞ্চার হোক প্রাণে। পূর্ণতা পাক প্রতিটি জীবন।

বাংলা একাডেমির তথ্য অনুসারে, সংশোধিত বর্ষপঞ্জিতে বৈশাখ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাস ৩১ দিন, কার্তিক থেকে মাঘ মাস ৩০ দিন এবং ফাল্গুন মাস ২৯ দিন ধরে গণনা করা হবে। তবে গ্রেগরীয় পঞ্জিকার অধিবর্ষে (লিপ ইয়ার) ফাল্গুন মাস ২৯ দিনের পরিবর্তে ৩০ দিন গণনা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই সেভাবেই সাজানো হয়েছে নতুন বাংলা বর্ষপঞ্জি।

প্রাচীন আমল থেকেই বাঙালি বসন্ত উৎসব পালন করে আসছে। হিন্দুদের পৌরাণিক উপাখ্যান ও লোককথাগুলোতে এই উৎসবের উল্লেখ পাওয়া যায়। হিন্দু বৈষ্ণবরা এটি বেশ আয়োজনের সঙ্গে পালন করে থাকেন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়কাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে বিশেষ নৃত্যগীতের মাধ্যমে বসন্ত উৎসব পালনের রীতি চলে আসছে। বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে বাংলাদেশে প্রথম ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন করার রীতি চালু হয়।

আরও পড়ুন