বাশ দিয়ে তৈরি হবে ক্রিকেটের ব্যাট। চিরাচরিত উইলো কাঠের চেয়ে এই ব্যাট, ব্যাটসম্যানের জন্য যেমন জুতসই, তেমনি উৎপাদন খরচও অনেক কম। ক্যামব্রিজের তিন গবেষক উদ্ভাবন করেছেন এই ব্যাম্বু ব্যাট। এখন শুধু প্রয়োজন মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের অনুমোদন।
ক্রিকেট ব্যট তৈরি হবে বাঁশ দিয়ে। আর কাঠের তৈরি ব্যাটের চেয়ে সেগুলো দিয়ে শট নেয়া যাবে বেশি জোরে, রান তোলাও হবে সহজ।
অবাক হওয়ার কিছু নেই। এই উদ্ভাবনে ক্রিকেট বিশ্বে রীতিমতো আলোড়ন তুলে দিয়েছেন ক্যামব্রিজের তিন গবেষক ডক্টর দার্শিল শাহ, মাইকেল রামেজ ও বেন টিঙ্কলার-ডেভিস। তারা এর নাম দিয়েছেন স্বপ্নের ব্যাট। গবেষণায় শুধু ওজন ছাড়া সবকিছুতেই বর্তমান ক্রিকেট ব্যাটের চেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছে দ্য ব্যাম্বু ব্যাট।
নতুন এই বাঁশের ব্যাট সবদিক থেকেই ব্যাটসম্যানদের জন্য বেশি উপকারী। এটা তুলনামূলকভাবে বেশি শক্ত। উইলোর চেয়ে তিন গুণ বেশি ধকল নিতে পারে এবং অনেক বেশি ওজন নিতেও সক্ষম। অর্থৎ তুলনামূলক সরু বাঁশের ব্যাট কাঠের ব্যাটের সমান শক্তিশালী হবে।
ব্যাটসম্যানরা আরো জোরে ব্যাট ঘোরাতে পারবেন এবং আগের চেয়ে বেশি শক্তি প্রয়োগ করতে পারবেন। উইলোর চেয়ে বাঁশের ব্যাট ২২ শতাংশ বেশি দৃঢ়। ফলে বল আরো দ্রুতগতিতে ছুটবে বাউন্ডারির দিকে।
এতো কিছুর বাইরে এই ব্যাট তৈরির পেছনে আছে এক মহান উদ্দেশ্য, দরিদ্র দেশগুলোতেও ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেয়া। উইলোর পর্যাপ্ত যোগান নিশ্চিত করা কঠিন। ব্যাটের জন্য উপযুক্ত কাঠ পেতে উইলো গাছের বয়স ১৫ বছর হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এর মধ্যে মূল্যবান সেই কাঠের ১৫ থেকে ৩০ ভাগ নষ্ট হয় ব্যাট বানানোর সময়।

সব হিসেব শেষে একটা ব্যাটের দাম ফুলেফেঁপে অনেকেরই নাগালের বাইরে চলে যায়। সে তুলনায় বাঁশ অনেক সস্তা, তাই এই ব্যাট দরিদ্র দেশগুলোতেও বাড়াবে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা।
এতকিছুর পরও বেধেছে বিপত্তি, ক্রিকেটের ল মেকার, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের কড়া আইন। কাঠ দিয়ে তৈরি নয় এমন ব্যাট দিয়ে খেলা যাবে না ক্রিকেট। আর এর ব্যাটের ওপর কোন প্রোলেপ ব্যহার করা যাবে না, তাও যাচ্ছে ব্যাম্বু ব্যাটের বিপক্ষে। তবে এমসিসি জানিয়েছে ব্যাটসম্যানদের সুবিধা আর কিক্রেটের বিশ্বায়নের কথা মাথায় রেখে এই ব্যাটের বিষয়টা বিবেচনা করে দেখবে তারা।