স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে যেতে চায়, যা দেখে বিশ্বের মানুষ একদিন বলবে এই দেশটা অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে দেশের যে গৌরবময় অবস্থান ছিল, সেই জায়গায় দেশকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
শনিবার (২০ জুন) বিকালে মুন্সিগঞ্জ সার্কিট হাউজে জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যে ফেলে দিয়ে গিয়েছিল। সবকিছু লুটপাট করে তারা অর্থনীতিকে ফোকলা করে দিয়ে গেছে।
সেই বিপর্যস্ত পরিস্থিতি থেকে দেশকে টেনে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সংকট মোকাবেলায় নতুন নতুন অনেকগুলো পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি মুন্সিগঞ্জের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরির পরামর্শ দেন।
মতবিনিময় সভার শুরুতে মন্ত্রী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের পরিবারের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন। এর আগে দুপুরে তিনি মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার উত্তর ইসলামপুর এলাকায় কালীদাস নদীর উপর নির্মিত কাঠের পুল পরিদর্শন করেন এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদদের কবর জিয়ারত করেন। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি উত্তর ইসলামপুর-মোল্লারচর কাঠের পুলের স্থলে একটি সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেন এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
মালয়েশিয়ার সাথে সম্পর্কের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশটির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার ও শক্তিশালী হবে। উভয় দেশের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষা করে চুক্তি সম্পন্ন হবে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমবাজার পুনরায় চালু করার বিষয়েও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হবে।
এর আগে আয়োজিত এক পথসভায় স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মাত্র তিন মাস সময় হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্টদের ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থাসহ বহু কাজ শুরু করেছে। সেই সাথে দেশব্যাপী খাল কাটা কর্মসূচিও পুনরায় চালু করা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, মুন্সিগঞ্জ-১, ২ ও ৩ আসনের সংসদ সদস্য যথাক্রমে মোঃ আব্দুল্লাহ, আব্দুস সালাম আজাদ ও কামরুজ্জামান রতন, মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিবিসি/টিবিএ