বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিনিয়োগবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিগত তিন বছর দেশের অর্থনীতি এক ধরনের স্থবিরতার মধ্য দিয়ে গেছে, যার ফলে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আসেনি। তবে প্রতি বছর দেশে প্রায় ২০ লাখ তরুণ কর্মক্ষম মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, যাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এই লক্ষ্য পূরণে দেশকে ‘ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেন্ডলি’ করার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বস্ত বাণিজ্য অংশীদার। দ্বিপাক্ষিক এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং অদূর ভবিষ্যতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশে ইইউভুক্ত দেশগুলোর বিনিয়োগ বাড়ানোর জোরালো আহ্বান জানান।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গতিশীল করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের বাণিজ্যের পথে থাকা নন-ট্যারিফ বাধাগুলো অপসারণে বাণিজ্যমন্ত্রীর সরাসরি সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। রাষ্ট্রদূত দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সব পক্ষের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইইউভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।
বৈঠকে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান এবং অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিসটিয়াগা, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান ব্রিক্স মুলার, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ফ্রেডরিক ইনজা, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক, ইতালির রাষ্ট্রদূত এন্তোনিও আলসান্দ্রে, জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জরিস ভ্যান বোমেল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্রেড অ্যাডভাইজর আবু সাঈদ বেলাল অংশ নেন।
ডিবিসি/এএমটি