পাকিস্তান ও বাংলাদেশে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের কার্যক্রম বিস্তারের দাবি করেছে ইসরায়েল। ভারতের নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছেন, গত বছরের ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে তেল আবিব পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের তৎপরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে এ দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেননি ইসরায়েলি দূত।
সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র জ্যেষ্ঠ নির্বাহী সম্পাদক আদিত্য রাজ কাউলকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি করেন। একই সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন এই ইসরায়েলি কূটনীতিক।
ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার দাবি করেন, চরমপন্থী সংগঠনগুলো ৭ অক্টোবরের হামলাকে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার একটি মডেল হিসেবে দেখতে পারে।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছি। কিছু তথ্য প্রকাশ্য উৎস থেকে পাওয়া গেলেও, এর বাইরেও অনেক কর্মকাণ্ড পর্দার আড়ালে থাকতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের তৎপরতা পুরো অঞ্চলের সরকারগুলোর জন্যই উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত। ইতিমধ্যে ইসরায়েল তাদের এই উদ্বেগের কথা ভারত সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে এবং উগ্রবাদী দলগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী কর্মকর্তাদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনার তাগিদ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং নিজেদের একটি কূটনৈতিক সেতু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ। তবে পাকিস্তানের এই ভূমিকাকে চরম অবিশ্বাসের চোখে দেখছে তেল আবিব।
আজার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইসরায়েল পাকিস্তানকে বিশ্বাস করে না এবং তাদের এই কূটনৈতিক অবস্থানকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দেখছে। তিনি মন্তব্য করেন, কিছু দেশ মনে করে শান্তি মানে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করা যেখানে ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। তিনি কেবল পাকিস্তানই নয়, এই অঞ্চলের বিভিন্ন বিষয়ে কাতারের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ ও সমালোচনা প্রকাশ করেন।
ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের অভিযোগ, পাকিস্তানের প্রশাসনের একটি বড় অংশ প্রতিনিয়ত অ্যান্টি-সেমিটিক বা ইহুদি-বিদ্বেষী মনোভাব উসকে দিচ্ছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মন্তব্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের আচরণ ইসরায়েল এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি ইসলামাবাদের মনোভাবের কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় না।
ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের এই বিস্ফোরক মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে বিভিন্ন কূটনৈতিক চুক্তি ও সমঝোতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান শক্তি ভারত দীর্ঘদিন ধরেই এই অঞ্চলে উগ্রবাদ ও আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বরাবরই এই অঞ্চলের বিরোধ নিষ্পত্তিতে আলোচনার পথ বেছে নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন। একই সাথে ভারত ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে সমানভাবে শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাসের নেটওয়ার্ক বিস্তারের বিষয়ে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের এই দাবি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি এবং নিরাপত্তা মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
ডিবিসি/এসএফএল