ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা

বাংলাদেশে শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারের সময় সবসময় পাশে থাকেন মাত্র ২০ শতাংশ অভিভাবক

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

শিশুরা নানাভাবে ভাষা শেখে। পরিবার থেকে শুরু করে সামাজিক নানা বিষয় শিশুর ভাষা বিকাশে ভূমিকা পালন করে। গেল কয়েক বছর ধরে শিশুদের হাতেও দেখা যাচ্ছে মুঠোফোনসহ নানা ধরণের ডিজিটাল ডিভাইস। এসব ডিভাইস ভাষা শেখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ৩–৮ বছর বয়সী ৫০ শিশুর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ শিশু বিনোদনমূলক কনটেন্ট দেখে, আর সন্তানের স্ক্রিন ব্যবহারের সময় সবসময় পাশে থাকেন মাত্র ২০ শতাংশ অভিভাবক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগের এক এম.ফিল গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর ভাষা ও বাচনিক দক্ষতা বিকাশে স্ক্রিনে ব্যয় করা সময়ের পরিমাণের চেয়ে কনটেন্টের ধরন এবং শিশুর সক্রিয় অংশগ্রহণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের বাক ও ভাষা বিকাশে স্ক্রিন টাইমের প্রভাব: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। অধ্যাপক ড. হাকিম আরিফের তত্বাবধানে গবেষণাটি করেছেন মো. জাহিদ হোসাইন খান।

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও টাঙ্গাইলের ৩ থেকে ৮ বছর বয়সী ৫০ শিশু এবং সমসংখ্যক অভিভাবক ও কেয়ারগিভার গবেষণায় অংশ নেন। মিশ্র পদ্ধতিতে পরিচালিত গবেষণায় প্রশ্নমালা জরিপের পাশাপাশি প্রতিটি শিশুকে ৩০ মিনিট ধরে স্ক্রিন ব্যবহারের সময় সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হয়। জরিপে দেখা যায়, ৪০ শতাংশ শিশু দৈনিক ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা এবং ২০ শতাংশ শিশু চার ঘণ্টারও বেশি সময় স্ক্রিনে কাটায়। ৯০ শতাংশ শিশুর প্রধান মাধ্যম মোবাইল ফোন, এরপর টেলিভিশন (৭০%) ও ট্যাব (৫০%)। ৮০ শতাংশ শিশু কার্টুন ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দেখে, এবং ৬০ শতাংশ শিশু স্ক্রিনের সামনে নিষ্ক্রিয়ভাবে সময় কাটায়।

 

পর্যবেক্ষণে দুটি ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। শিক্ষামূলক ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ অ্যাপ ব্যবহারকারী ৩ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুরা নতুন শব্দ পুনরাবৃত্তি করেছে, প্রশ্ন করেছে, এবং তাদের বাক্যগঠনে উন্নতি দেখা গেছে। বিপরীতে যারা কেবল কার্টুন বা ইউটিউব ভিডিও দেখেছে, তাদের কথা বলার প্রবণতা কমেছে; ভিডিও বন্ধ করতে বললে অনেকে জেদ বা কান্নার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ৬ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুরা কনটেন্ট নিয়ে বেশি কথা বললেও তাদের বাক্য কাঠামোগতভাবে দুর্বল ছিল।

 

অভিভাবকের ভূমিকা নিয়ে গবেষণাটি একটি সুনির্দিষ্ট ঘাটতির দিকে ইঙ্গিত করে। সন্তানের স্ক্রিন ব্যবহারের সময় সবসময় পাশে থাকেন মাত্র ২০ শতাংশ অভিভাবক, আর স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ৩০ শতাংশ। জরিপে অংশ নেওয়া ৫০ শতাংশ মনে করেন অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার ভাষাবিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, এবং ৬০ শতাংশ শব্দভাণ্ডার কমে যাওয়ার কথা বলেছেন। তবে ৬০ শতাংশ এ-ও মনে করেন, যথাযথভাবে ব্যবহৃত হলে স্ক্রিন টাইম ভাষা শেখায় সহায়ক হতে পারে।

 

গবেষক মো. জাহিদ হোসাইন খান বলেন, ভাষা শেখার প্রধান শর্ত দ্বিমুখী কথোপকথন, আর স্ক্রিন সেই যোগাযোগকে একমুখী করে দেয়। অভিভাবক পাশে বসে কনটেন্ট নিয়ে শিশুর সঙ্গে কথা বললে সেটি আর নিছক স্ক্রিন টাইম থাকে না, শেখার প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়। গবেষণা নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অথ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী বলেন, গবেষণায় বয়স-উপযোগী সময়সীমা নির্ধারণ, বাংলা ভাষায় মানসম্পন্ন শিক্ষামূলক কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার, অভিভাবক-শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং সরকারি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচির সুপারিশ করা হয়েছে।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্গত কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগের গবেষক মো. জাহিদ হোসাইন খান এমফিল গবেষণায়র অংশ হিসেবে এই গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তাঁকে এই ডিগ্রি প্রদানের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়। গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগের অধ্যাপক হাকিম আরিফ বলেন, বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের সুস্থ বিকাশের ক্ষেত্রে স্ক্রিন টাইম একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের সমাজে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী কোনো বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা ছিল না বললেই চলে। এই গবেষণা সেই ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গবেষণার তথ্য জানানো হয়েছে।

 

ডিবিসি/ আরএফই

আরও পড়ুন