বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে নতুন এক অধ্যায় সূচিত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় সুঙসিল এবং বাংলাদেশের অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (এডিইউএসটি) মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তৃপক্ষ বলিষ্ঠ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
গত সোমবার (২০ এপ্রিল) সিউলে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বৈঠকে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন এবং সুঙসিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. ইয়ুনজাই লীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল উভয় দেশের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুঙসিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক ইয়ং জিন আহন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ডিন ড. জংমিন শন এবং গ্লোবাল ফিউচার এডুকেশন ইনস্টিটিউটের পরিচালক গো ডং উহানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এছাড়াও কোরিয়ায় অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌশলগত সহযোগী সোল গেটওয়ে কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট ড. মুন জে-কিউনসহ স্থানীয় বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তারা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ নেতৃত্ব শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি, যৌথ গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে দ্রুত একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়েও উভয় পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছায়।
১৮৯৭ সালে পিয়ংইয়ংয়ে প্রতিষ্ঠিত এবং বর্তমানে সিউলে অবস্থিত সুঙসিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতা এবং অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবনী উদ্যোগের সমন্বয় উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একাডেমিক আলোচনার পাশাপাশি পরদিন মঙ্গলবার অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন সিউলের শীর্ষস্থানীয় দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ‘স্পার্কস’ পরিদর্শন করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স এবং হাইটেক শিল্পে তরুণদের কর্মসংস্থান উপযোগী প্রশিক্ষণে এই প্রতিষ্ঠানের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশে দক্ষতা উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তি খাতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার এক নতুন ও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
ডিবিসি/টিবিএ