আন্তর্জাতিক, ভারত

বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সাপ-কুমির ছাড়ার চিন্তা ভারতের!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নদীপথে অনুপ্রবেশ ও অপরাধ দমনে সাপ এবং কুমির ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)।

ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য হিন্দু’র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

 

বিএসএফ সদর দফতর থেকে গত ২৬ মার্চ পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় মাঠ পর্যায়ের ইউনিটগুলোকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ নদীপথে সাপ বা ঘড়িয়ালের মতো সরীসৃপ প্রাণী মোতায়েন করা অপারেশনাল দৃষ্টিকোণ থেকে কতটা কার্যকর হবে, তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। এই উদ্যোগ দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া দিকনির্দেশনার অংশ বলেও জানানো হয়েছে।

 

তবে বিএসএফ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। বড় নদীগুলোতে কুমির বা ঘড়িয়াল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি এখানে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জনপদে বসবাসকারী মানুষের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

 

গত ৯ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে বিএসএফ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই নির্দেশনা আসে। মূলত বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্বে থাকা বিএসএফ পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের ভৌগোলিক জটিলতার কারণে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে। পাহাড় ও নদীর কারণে সীমান্তের অনেক স্থানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্ভব হয়নি।

 

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির গত ১৭ মার্চের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের মধ্যে ৩,৩২৬.১৪ কিলোমিটারে বেড়া নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও এখন পর্যন্ত ২,৯৫৪.৫৬ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে। এখনো প্রায় ৩৭১ কিলোমিটার এলাকা বেড়াবিহীন অবস্থায় রয়েছে।

 

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রতিবেদনেও সীমান্তের কঠিন ভূখণ্ডে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপরাধ ঠেকানোর চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নদী, নিচু এলাকা এবং জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় যেসব স্থানে ভৌত বেড়া নির্মাণ করা যাচ্ছে না, সেখানে ‘নন-ফিজিক্যাল ব্যারিয়ার’ বা প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিবন্ধকতা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্কবিহীন ‘ডার্ক জোন’ এবং সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তথ্য সংগ্রহের জন্যও সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন