রাজশাহীর বাগমারায় বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পল্লী বিদ্যুতের একটি জনসচেতনতামূলক প্রচার গাড়ি আটকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।
রবিবার (২৮ জুন) বিকেলে উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের মচমইল বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পুরো উপজেলাটি নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এদিন বিকেলে পল্লী বিদ্যুতের একটি পিকআপ ভ্যানে মাইকিং করে লোডশেডিংয়ের বিষয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছিল। প্রচারণায় বিদ্যুতের বর্তমান চাহিদা ও প্রাপ্তির বিষয়টি তুলে ধরে গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী রাত নয়টার মধ্যে সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ করার কথাও বলা হচ্ছিল ওই প্রচারণায়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে প্রচার গাড়িটি মচমইল বাজারের পেট্রলপাম্পের কাছে পৌঁছালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সেটির গতিরোধ করে। এ সময় তারা দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের কারণে নিজেদের চরম ক্ষোভের কথা জানায় এবং গালাগাল করে। একপর্যায়ে জনতার ক্ষোভ বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পল্লী বিদ্যুতের গাড়িটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ বিষয়ে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১–এর ভবানীগঞ্জ আঞ্চলিক দপ্তরের মহাব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকেরা অতিষ্ঠ হয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সমস্যার কারণটি ব্যাখ্যা করতে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেকই ওই প্রচারণা চালানো হচ্ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, বিদ্যুতের ঘাটতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১–এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. ফকরুল আলম জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে আসায় এই লোডশেডিং। বর্তমানে দিনের বেলা ১২০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫৮-৭০ মেগাওয়াট এবং রাতের বেলা ১৩১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭২-৮৩ মেগাওয়াট।
তিনি আরও জানান, তীব্র গরম এবং বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে এই এলাকার জন্য জরুরি ভিত্তিতে ২০ মেগাওয়াট বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে সরকারদলীয় হুইপকে ইতিমধ্যে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।
ডিবিসি/এমএনকে