জেলার সংবাদ

বাগেরহাটে অভাবের তাড়নায় মাথার সব চুল বিক্রি, ২ শিশু নিয়ে অনিশ্চয়তায় রেহানা

বাগেরহাট প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

দারিদ্র্যের নির্মমতায় ঘর ভাড়া মেটাতে শেষ পর্যন্ত মাথার চুল বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন রেহানা খাতুন নামে এক অসহায় নারী। আশ্রয় হারিয়ে এখন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামে খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা জায়গায় দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তিনি

স্থানীয় সূত্র জানায়, রেহানা আগে দুই সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া ঝুপড়ি ঘরে থাকতেন। দীর্ঘদিন ঘরের ভাড়া বাকি পড়ে থাকায় অবশেষে সেই আশ্রয়টুকুও হাতছাড়া হয় তার। অভাবের তাড়নায় ৫০০ টাকার ঘর ভাড়া মেটাতে নিজের মাথার সব চুল বিক্রি করে দেন তিনি। এরপর ঠাঁই না পেয়ে সন্তানদের নিয়ে রেললাইনের সরকারি জমিতে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

 

রেহানার দুর্দশা দেখে প্রতিবেশীরা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। তাদের উদ্যোগে খুলনা-মোংলা রেলব্রিজের পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামোর ব্যবস্থা করা হয়। তবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও আর্থিক অনটনে তা আর পূর্ণতা পায়নি। মাথার ওপর টিন আর চারপাশে বেড়া না থাকায় তীব্র রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই অনাবৃত কাঠামোর নিচে দুই সন্তান নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম বলেছেন, মাথা গোঁজার জায়গা না থাকায় রেহানা একসময় পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন দেখি তার মাথায় চুল নেই। জিজ্ঞেস করলে কান্নাকাটি করে জানায়, ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে সে তার চুল বিক্রি করেছে।

 

রহিম শেখ বললেন, রেহানার অবস্থা খুবই করুণ। দুই সন্তানকে নিয়ে সে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করব, যেন দ্রুত তার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হয়।

 

মহিদুল ইসলাম নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানালেন, রেহানার জন্য বাঁশের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এখন শুধু টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা করতে পারলেই একটি ঘর দাঁড় করানো সম্ভব। এলাকার সচ্ছল মানুষ ও মানবিক ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে তার সন্তানদের নিয়ে অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে একটি বাঁশের কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। সেখানেই দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন রেহানা। কিন্তু টিন ও বেড়ার অভাবে ঘরটি এখনো বসবাসের উপযোগী হয়নি।

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেহানা খাতুন বলেন, ‘দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করি। মাথা গোঁজার ঠাঁই তো নেই-ই, খাওয়ারও খুব কষ্ট। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করতে হয়েছিল। আমি সরকারের কাছে একটু নিরাপদে থাকার জন্য সহায়তার আকুতি জানাচ্ছি।’

 

অসহায় এই পরিবারটির দীর্ঘদিনের অবসান ঘটাতে সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় একটি স্থায়ী ঘর বরাদ্দের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

ডিবিসি/এসডব্লিউএন
 

আরও পড়ুন