বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

বাগেরহাটে কুমিরের আক্রমণে মৃত কুকুরটি ছিল জলাতঙ্কে আক্রান্ত: তদন্ত প্রতিবেদন

বাগেরহাট প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজার দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিহত কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল বলে নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি।

একই সঙ্গে, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে ঠেলে দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছিল, তার কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কুকুরটির সংস্পর্শে আসা বা কামড় খাওয়া ব্যক্তিরা বর্তমানে চরম জলাতঙ্ক ঝুঁকিতে রয়েছেন।


গত ৮ এপ্রিল বিকেলে মাজারের প্রধান ঘাট এলাকায় দিঘিতে থাকা কুমির ধলা পাহাড় একটি কুকুরকে শিকার করে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। নেটিজেনদের অনেকেই অভিযোগ করেন, কুকুরটিকে পরিকল্পিতভাবে কুমিরের খাবার হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।


ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন। তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১১ এপ্রিল জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে কুকুরটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে পরীক্ষার জন্য কুকুরের মাথা ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি (সিডিআইএল)-এ পাঠানো হয়। ১৫ এপ্রিল ল্যাব থেকে আসা চূড়ান্ত রিপোর্টে কুকুরটির শরীরে জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।


তদন্ত কমিটির প্রধান আতিয়া খাতুন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি ও ল্যাব রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল। এটি কোনো পরিকল্পিত ঘটনা নয়, বরং দুর্ঘটনাবশত কুকুরটি পানিতে পড়ে যায় এবং কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। কুকুরটিকে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে পানিতে ফেলেছে-এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জলাতঙ্কে আক্রান্ত কুকুরটি দিঘির পাড়ে অবস্থানকালে যদি কাউকে কামড় দিয়ে থাকে বা কারও সংস্পর্শে এসে থাকে, তবে তাদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন