বাগেরহাটের শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানমের বিরুদ্ধে ৫০ পিস ইয়াবা দাবি, মিথ্যা মাদক মামলা দেওয়ার হুমকি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করে বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক কলেজছাত্র।
সোমবার (৩ আগস্ট) পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া অভিযোগে শরণখোলা উপজেলার মঠেরপাড় এলাকার বাসিন্দা ও কলেজছাত্র মো. শফিকুল ইসলাম মুসা উল্লেখ করেন, গত শনিবার (২ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে তিনি কথিত মাদক কারবারি ইলিয়াস তালুকদারকে শরণখোলা থানা এলাকায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে ওসি রোকেয়া খানমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযানের পর ওসি রোকেয়া খানম প্রথমে তার কাছে ১০০ পিস ইয়াবা দাবি করেন। এতে রাজি না হলে পরে ৫০ পিস ইয়াবা থানার গেটের সামনে রেখে যেতে বলা হয়। এ কাজে ওসির বডিগার্ড নাহিদ হাসান সুমনের মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশের কথা বলে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন বলেও দাবি করেন অভিযোগকারী।
শফিকুল ইসলাম মুসা আরও অভিযোগ করেন, ইয়াবা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানের মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। অভিযোগের সমর্থনে অডিও কল রেকর্ড, ভিডিওসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ তার কাছে রয়েছে বলেও তিনি লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেছেন। তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শরণখোলা থানার ওসি রোকেয়া খানম। তিনি বলেন, ‘রোববার বিকেল ৫টার দিকে ইলিয়াসকে ১৮ পিস ইয়াবা, ২০০ গ্রাম গাঁজা এবং প্রায় ২৯ হাজার টাকাসহ আটক করা হয়েছে। মুসাকে আমি কোনো ইয়াবা দিতে বলিনি। তাকে আমার কাছে আসতে বলেছি। অপরাধী ধরতে অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের কৌশল বা ফাঁদ ব্যবহার করতে হয়।’
ডিবিসি/ এসভিএন