বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে আপন চাচার বিরুদ্ধে এক কিশোরকে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই কিশোর বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে অভিযুক্ত চাচার দাবি, মাদকাসক্ত ভাতিজাকে তিনি কেবল শাসন করেছেন।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার বাহিরদিয়া বুড়ির বটতলা এলাকার অহিদুল শেখের ছেলে নাইম শেখকে (১৬) তার আপন চাচা এজাজুল শেখ জোরপূর্বক আটকে রাখেন। অভিযোগ রয়েছে, কয়েক ঘণ্টা ধরে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।
পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে মো. ইসা শেখ নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা তাকে উদ্ধার করে তার বাবা অহিদুল শেখের কাছে হস্তান্তর করেন। নির্যাতনের শিকার নাইমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা জানান, নাইম ভালো ছেলে এবং তার বিরুদ্ধে চাচার আনা মাদকাসক্তির অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
ভুক্তভোগী কিশোরের বাবা অহিদুল শেখ জানান, তারা সেখানে বসবাস করেন না, এরপরও তার ছেলেকে কেন এভাবে মারধর করা হয়েছে তা তিনি জানেন না। তিনিও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচার দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত চাচা এজাজুল শেখ দাবি করেন, তার ভাতিজা মাদকাসক্ত। সে তার দাদিকে (এজাজুলের মাকে) মারধর করেছে এবং ইবাদতের ঘরে আগুন দিয়েছে। এ কারণেই তাকে ধরে এনে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে শাসন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম জানান, থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই কিশোর এর আগে একটি গোয়ালঘরে আগুন দেয় এবং একটি বসতঘর কুপিয়ে ক্ষতিসাধন করে। এসব ঘটনার জেরেই আপন চাচা তাকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ডিবিসি/আরএসএল