আন্তর্জাতিক

বাব এল–মান্দেবে হুতিদের হামলা, নিহত ৪ নাবিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার সমুদ্রপথে দুটি পৃথক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে মিসরীয় মালিকানাধীন পণ্যবাহী জাহাজ ‘তিহামাহ’-তে ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় চারজন নাবিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানি ও একজন ইন্দোনেশীয়।

রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর হুতিদের জাহাজ হামলায় এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। হুতি নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সাবা দাবি করেছে, জাহাজটিতে সৌদি আরবের সামরিক সরঞ্জাম ছিল, যদিও এ বিষয়ে সৌদি সরকারের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

একই দিন ওমান সাগরে পানামার পতাকাবাহী অপর একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, জাহাজটি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ অমান্য করে এগিয়ে যাচ্ছিল এবং বারবার সতর্ক করার পরও থামেনি। বাধ্য হয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার থেকে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে জাহাজটির দিক পরিবর্তন করার যন্ত্র অকার্যকর করে দেওয়া হয়। পাঁচ মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নতুন করে বেড়েছে, পাশাপাশি বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও ব্যাপক দরপতন দেখা গেছে।

 

এদিকে ইরানের শর্ত মানা না হলে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই। ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমকে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দিতে হবে এবং লেবানন ও গাজাসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। বিশ্ববাজারে এই প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম; যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথেই পরিবাহিত হতো। রয়টার্সের তথ্যমতে, যুদ্ধের আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করলেও সোমবার মাত্র ছয়টি জাহাজ পারাপার হয়েছে। রেজাইর এই বক্তব্যকে হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়ে ইরানের সবচেয়ে কঠোর অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হলেও ওয়াশিংটন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

 

অন্যদিকে, সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে নতুন এক দাবি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, গত ৫০ বছরে বিভিন্ন যুদ্ধ, হামলা ও বিক্ষোভে নিহতদের জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে ট্রাম্প কখনো সংঘাত বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনো দ্রুত শান্তিচুক্তির সম্ভাবনার কথা বলেছেন। সোমবার রাতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানিদের আলোচনার ক্ষেত্রে ‘অত্যন্ত ধূর্ত’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানান, সংঘাতের বর্তমান অনিশ্চয়তা আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে।

 

এর মধ্যেই ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডারের উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নাকদি আরও সংঘাতের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, নির্দেশ পেলে শত্রুর ভূখণ্ডে অভিযান চালানোর সক্ষমতা তৈরি করছে তাদের বাহিনী। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে এ সংঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান ওমান, জর্ডান, কুয়েত, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে থাকা মার্কিন স্থাপনা ও অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরির আশঙ্কা বাড়ছে।

 

ডিবিসি/এফএইচআর

আরও পড়ুন