জার্মানিতে গত ২৫ বছরের মধ্যে আলুর সর্বোচ্চ ফলন হওয়ায় এক অদ্ভুত কিন্তু আনন্দদায়ক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ‘কার্টফেল-ফ্লুট’ বা ‘আলুর প্লাবন’ নাম দেওয়া এই উদ্বৃত্ত ফসলের ভার সইতে না পেরে বার্লিনের রাস্তায় রাস্তায় ট্রাক ভর্তি আলু বিনামূল্যে বিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
লিপজিগের এক কৃষকের প্রায় ৪০০০ টন আলু বিক্রি না হওয়ায় তা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সেই ফসল বাঁচাতে একটি স্থানীয় সংবাদপত্র এবং ইকো-ফ্রেন্ডলি সার্চ ইঞ্জিন ‘ইকোসিয়া’ মিলে এক অভিনব উদ্যোগ নেয়। বার্লিনজুড়ে প্রায় ১৭৪টি পয়েন্টে এই আলু সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
তীব্র শীত আর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে বার্লিনবাসীর কাছে এই বিনামূল্যে আলু এক আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাগ, বালতি এমনকি ঠেলাগাড়ি নিয়ে মানুষ লাইন দিচ্ছে আলু সংগ্রহের জন্য।
লঙ্গরখানা, আশ্রয়কেন্দ্র, কিন্ডারগার্টেন এবং চার্চগুলো তাদের প্রয়োজনমতো আলু নিয়ে যাচ্ছে। পশুখাদ্য হিসেবে টনের পর টন আলু সরবরাহ করা হয়েছে।
ইতোমধ্যেই দুই ট্রাক আলু যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে পাঠানো হয়েছে।
বার্লিনের ঐতিহাসিক টেম্পেলহোফার ফেল্ডসহ বিভিন্ন স্থানে আলু বিতরণকে কেন্দ্র করে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যেও মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে একে অপরকে আলু সরাতে সাহায্য করছে এবং রান্নার রেসিপি বিনিময় করছে। এমনকি সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মারকেলের বিখ্যাত ‘পটেটো স্যুপ’ এর রেসিপিও আবার আলোচনায় উঠে এসেছে।
আমি গুনে শেষ করতে পারছি না, তবে মনে হয় আমার এবং আমার প্রতিবেশীদের পুরো বছর চলে যাবে, বলছিলেন লাইনে দাঁড়ানো এক স্কুল শিক্ষিকা।
তথ্যসূত্র দ্য গার্ডিয়ান
ডিবিসি/এমইউএ