জেলার সংবাদ

বাস্তব জীবনের ‘নায়ক’ জসিম! শরীয়তপুরে নিজের কিডনি দিয়ে বাঁচালেন স্ত্রীকে

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

শুক্রবার ১৭ই এপ্রিল ২০২৬ ০১:৪০:২০ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

“বাঁচলে একসঙ্গেই বাঁচব, মরলে একসঙ্গেই মরব” এই অঙ্গীকার কেবল সিনেমার পর্দায় নয়, বাস্তবে রূপদান করেছেন শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার জসিম উদ্দিন। নিজের শরীরের একটি অঙ্গ জীবনসঙ্গিনীকে দান করে ভালোবাসার এক বিরল ও মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

স্বার্থপরতার এই যুগে জসিম প্রমাণ করেছেন, দাম্পত্য মানে কেবল সুসময়ের অংশীদার হওয়া নয়, বরং কঠিনতম দুর্যোগে একে অপরের ঢাল হয়ে দাঁড়ানো।

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার বসকাঠি গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন ও মিনারা বেগমের সুখের সংসারে হঠাৎ বিপর্যয় নেমে আসে ২০২৪ সালের শুরুতে। 

 

চিকিৎসায় ধরা পড়ে মিনারার দুটি কিডনিই বিকল, সাথে ছিল টিউমারের জটিলতা। একমাত্র সন্তান তামিমকে নিয়ে দেখা সুন্দর স্বপ্নগুলো যখন অনিশ্চয়তার মুখে, তখন মিনারার মা কিডনি দিতে চাইলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। চারিদিকে যখন নিরাশার অন্ধকার, তখনই ত্রাতা হিসেবে এগিয়ে আসেন স্বামী জসিম উদ্দিন।

 

নিজের জীবনের ঝুঁকি থাকলেও বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি জসিম। চিকিৎসকদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তার শরীর থেকে কিডনি নিয়েই যেন স্ত্রীকে সুস্থ করা হয়। গত ৫ মার্চ ঢাকার শ্যামলী সিকেডি হাসপাতালে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জসিমের একটি কিডনি মিনারার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। অস্ত্রোপচার পরবর্তী সময়ে তারা দুজনেই এখন সুস্থতার পথে।

 

এই আত্মত্যাগ প্রসঙ্গে জসিম উদ্দিন জানান, স্ত্রী কখনো তার কাছে কিডনি চাননি, কিন্তু সন্তানকে যেন তারা একসঙ্গে বড় করতে পারেন সেই তাড়না থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে নতুন জীবন ফিরে পাওয়া মিনারা বেগম আবেগে আপ্লুত হয়ে জানান, স্বামী তাকে কেবল কিডনিই দেননি, বরং নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস দিয়েছেন। এমন জীবনসঙ্গী পাওয়াকে তিনি পরম সৌভাগ্য বলে মনে করেন।

 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিএম নাসির উদ্দিন স্বপন এই ঘটনাকে দায়িত্ববোধ ও ত্যাগের এক বিরল উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। নাগরিক সমাজের মতে, জসিম উদ্দিনের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বর্তমান অস্থির সময়ে সমাজের জন্য এক গভীর বার্তা। 

 

শরীরের একটি অংশ হারালোও জসিমের মনে আজ প্রশান্তি, কারণ তার অর্ধাঙ্গিনী তার পাশেই সুস্থ শরীরে হাসিমুখে আছেন। এই দম্পতির ত্যাগের গল্প হাজারো মানুষের হৃদয়ে অনুপ্রেরণা হয়ে বেঁচে থাকবে।

 

ডিবিসি/টিবিএ

আরও পড়ুন