দীর্ঘ ১৭ বছরের কঠোর প্রতিজ্ঞা ভেঙে অবশেষে ভাতের দানা মুখে দিলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের আলোচিত বিএনপি সমর্থক ইনু মিয়া (৭৯)। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষের দুপুরে পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম কুলিয়ারচরের পশ্চিম জগৎচর এলাকায় ইনু মিয়ার নিজ বাড়িতে গিয়ে নিজ হাতে তাকে ভাত খাইয়ে এই প্রতিজ্ঞা ভাঙান।
ইনু মিয়া কুলিয়ারচর উপজেলার রামদী ইউনিয়নের পশ্চিম জগৎচর গ্রামের মৃত সুলায়মান মিয়ার ছেলে। পেশায় তিনি একজন কৃষিশ্রমিক ছিলেন। তবে সড়ক দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পাওয়ায় বর্তমানে তিনি লাঠিতে ভর করে চলাফেরা করেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটির একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন তিন সন্তানের জনক ইনু মিয়া। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে পশ্চিম জগৎচর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ কর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হন তিনি। সেই অপমানের ক্ষোভ থেকে তিনি প্রতিজ্ঞা করেন-যতদিন বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বা কর্মকাণ্ডে না ফিরবে, ততদিন তিনি অন্ন (ভাত) গ্রহণ করবেন না।
সেই থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর ভাত স্পর্শ করেননি ইনু মিয়া। জীবন অতিবাহিত করেছেন কেবল কলা, রুটি, বিস্কুট ও শুকনো খাবার খেয়ে। এমনকি কোনো সামাজিক বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে গেলেও তিনি ভাতের ধারেকাছে যেতেন না। সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ায় ইনু মিয়ার অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়। তবে তার জেদ ছিল, স্থানীয় নেতা ও বর্তমান প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম নিজে এসে খাইয়ে দিলেই তিনি ভাত খাবেন। সেই ইচ্ছা পূরণে মঙ্গলবার দুপুরে ইনু মিয়ার বাড়িতে উপস্থিত হন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম ইনু মিয়াকে পরম মমতায় পাশে বসিয়ে নিজ হাতে ভাত খাইয়ে দেওয়ার সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ১৭ বছরের পুঞ্জীভূত আবেগ আর প্রতিজ্ঞা পূরণের আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েন বৃদ্ধ ইনু মিয়া। এই অনন্য মুহূর্তটি দেখতে স্থানীয় শতশত উৎসুক মানুষ সেখানে ভিড় জমান। স্থানীয়রা ইনু মিয়াকে একজন নিবেদিতপ্রাণ ও আদর্শবান কর্মী হিসেবে অভিহিত করেন। এর আগে ইনু মিয়া জানিয়েছিলেন, তার একমাত্র শেষ ইচ্ছা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা।
ইনু মিয়ার স্ত্রী জোছনা খাতুন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অনেক চেষ্টা করেও তাকে এক মুঠো ভাত খাওয়াতে পারিনি। তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। আজ প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই প্রতিজ্ঞা পূরণ হওয়ায় আমরা পরিবারের সবাই খুব খুশি এবং স্বস্তিবোধ করছি।
এ বিষয়ে পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, ইনু ভাই ২০০৮ সালে লাঞ্ছিত হওয়ার পর যে কঠোর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তা তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। আপনাদের মতো ত্যাগী নেতাকর্মীদের কারণেই তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপি টিকে আছে। তৃণমূলের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগের ঋণ আমরা কোনোদিন শোধ করতে পারব না। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ইনু ভাইকে লাল সালাম জানাই।
ভাত খাওয়ানোর সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কিতাব আলী, সাধারণ সম্পাদক এমএ হান্নান, কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শাহ আলম, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আজাহার উদ্দিন লিটন এবং রামদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজলু মিয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
ডিবিসি/এসএফএল