বিক্রি হয়ে যাচ্ছে দেশের প্রথম সুপারশপ কোম্পানি আগোরা। দু'দশক আগে যাত্রা শুরু করা এই কোম্পানিটির শতভাগ মালিকানা কিনে নিচ্ছে শ্রীলংকার একটি প্রতিষ্ঠান।
এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, সনাতনী বাজারের সাথে এই সুপার শপগুলোকে অসম প্রতিযোগীতা করতে হচ্ছে ভ্যাট আরোপের কারণে। দেশের মাত্র ৬ শতাংশ পরিবার কেনাকাটা করে এই সুপারশপ থেকে।
২০০১ সালে সর্বপ্রথম সুপারশপ আগোরা চালু হয় দেশের বাজারে। রহিম আফরোজ গ্রুপের ৩০ ভাগ আর প্রাইভেটই ইক্যুইটি ফান্ড হিসেবে সুইডিশ প্রতিষ্ঠান ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্স বাংলাদেশের ছিল ৭০ ভাগ মালিকানা। এবার শ্রীলংকার কোম্পানি সফটলজিক আগোরার শতভাগ মালিকানা কিনে নিচ্ছে।
আগোরার দিক থেকে বলা হচ্ছে ব্যবসার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই এই বিক্রি। তবে আগামীতে কোম্পানিটির বিনিয়োগ ও কর্মীদের বিষয়ে সকল সিদ্ধান্ত নিবে শ্রীলংকার কোম্পানিটি।
ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্স বাংলাদেশের ম্যানেজিং পার্টনা খালিদ কাদির বলেন, 'নতুন যারা মালিক হবে, তারাই সীদ্ধান্ত নিবে কতটুকু বিনিয়োগ হবে বা আরও কত বিস্তার ঘটবে। আমার এখানে বলার কিছু নাই। অবশ্যই নতুন মালিক, নতুন বোর্ড থাকলে ব্যবস্থাপনায় কিছুতো পরিবর্তন আসবেই।'
এদিকে দেশের সনাতনী বাজারের বিপরীতে গোছানো পরিপাটি এই সুপারশপের বিকাশ আটকে আছে বিনিয়োগ সংকট, ভ্যাট আরোপ ও ক্রেতার মানসিক ভীতির কারণে।
স্বপ্নের নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির বলেন, 'সুপারশপে যদি ৫ শতাংশ ভ্যাট থাকে, বাইরেও সেটা ৫ শতাংশ ভ্যাট হয়। সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে এমআরপি-তে ঢুকিয়ে দিতে হবে। পণ্যের দামের সঙ্গে সেলস ভ্যাটটাও দিয়ে দিলে সরকার তার ভ্যাট পেয়ে যাবে।'
দেশের বাজারে ৯টি সুপারশপ কোম্পানির প্রায় ১ হাজার আউটলেট আছে। মোট বিক্রিতে এসব আউটলেটের অংশীদারিত্ব মাত্র দুই শতাংশ আর ৯৮ শতাংশ পণ্য বিক্রি হয় সনাতনী খুচরা বাজারে।
দেশের সুপারশপের বিকাশ হলে কন্ট্রাক ফার্মিংয়ে কৃষকরা যেমন লাভবান হবে তেমনি ক্রেতাও কম মূল্যে পণ্য কিনতে পারবেন বলে জানান সুপারশপ পরিচালনাকারিরা।