আন্তর্জাতিক, এশিয়া

বিক্ষোভের জেরে অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ইরানের প্রেসিডেন্টের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewsTwitter NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরানে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা সহিংস বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিপর্যস্ত অর্থনীতি ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রবিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নমনীয় সুর প্রকাশ করে বলেন যে, তাঁর সরকার জনগণের কথা শুনতে এবং তাদের উদ্বেগের সমাধান করতে প্রস্তুত। তবে একইসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই প্রাণঘাতী অস্থিরতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, সরকারের দায়িত্ব হলো সমস্যার সমাধান করা। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘দাঙ্গাবাজদের’ দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেওয়া হবে না। তিনি পরিবারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা তাদের সন্তানদের ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজদের’ এই অস্থিরতায় যুক্ত হতে না দেন। 

 

তার মতে, শত্রুরা দেশে প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী পাঠিয়েছে এবং দাঙ্গাবাজরা সাধারণ প্রতিবাদকারী নয়। তিনি জাতি, দল, বর্ণ, বা ভাষা নির্বিশেষে সবার মাঝে সম্পদ সুষমভাবে বণ্টনের লক্ষ্য ঘোষণা করেন।

 

ডিসেম্বরের শেষের দিকে ইরানি মুদ্রার মান ব্যাপক হারে কমে যাওয়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির জেরে এই সংকটের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে এটি রাজনৈতিক ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। 

 

এটি ২০২২-২০২৩ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর সৃষ্ট আন্দোলনের পর ইরানের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত ১০৯ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। তবে বিরোধী অ্যাক্টিভিস্টদের মতে, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি এবং এর মধ্যে অনেক বিক্ষোভকারীও রয়েছেন।

 

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং সশস্ত্র দাঙ্গার মধ্যে পার্থক্য টেনেছেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের হুমকির কড়া জবাব দেন। 

 

গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানে কোনো হামলা হলে ইসরায়েল এবং সমস্ত মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছিলেন যে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

 

ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে অস্থিরতা ধীরে ধীরে কমে আসছে। তবে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করেছেন যে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হতে পারে। 

 

পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, দেশটিতে ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থা বজায় রয়েছে।

 

সূত্র: আল জাজিরা

 

ডিবিসি/এনএসএফ

আরও পড়ুন