আন্তর্জাতিক, এশিয়া

বিক্ষোভ দমনে কঠোরতার জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

বুধবার ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:২০:৪৪ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতিকে কেন্দ্র করে গত ডিসেম্বরে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অবস্থানের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী তেহরানে ইসলামি বিপ্লব ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি সরকারের ভুলত্রুটি স্বীকার করে নেন। বিক্ষোভের ফলে সৃষ্ট ক্ষত কাটিয়ে ওঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, সরকার জনগণের কণ্ঠস্বর শুনতে প্রস্তুত এবং দেশের মানুষের সঙ্গে কোনো প্রকার সংঘাত চায় না।

 

বিক্ষোভে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশজুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলন কঠোরহস্তে দমনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কাছে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। সরকার জনগণের কাছে লজ্জিত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে তারা দায়বদ্ধ। তবে ক্ষমা চাইলেও দেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য তিনি শত্রুদের বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচারকে দায়ী করেন। বহির্বিশ্বের হুমকি ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় তিনি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, ইরানি জনগণের শক্তি ও ঐক্যই শত্রুর মনে উদ্বেগ তৈরি করে।

 

পারমাণবিক আলোচনার বিষয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, সরকার আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না এবং যে কোনো ধরনের যাচাই প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে রাজি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের তৈরি করা ‘অবিশ্বাসের দেয়াল’ আলোচনার সফলতা বাধাগ্রস্ত করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ওদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির লাগাম টানতে সামরিক হামলার হুমকি অব্যাহত রেখেছেন এবং ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।

 

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকায় অগ্নিসংযোগ এবং গত বছরের যুদ্ধে ভূপাতিত করা ইসরায়েলি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ ও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজারো মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতাও চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। 

 

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ খুঁজতে ওমান ও কাতারের মধ্যস্থতায় কাজ করছে ইরান। এর অংশ হিসেবে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি বর্তমানে কাতারে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে ইরান ইস্যুতে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানাতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

 

তথ্যসূত্র: আলজাজিরা

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন