আন্তর্জাতিক

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার কার্যকর ও দ্রুত বাস্তবায়ন চাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

বৃহঃস্পতিবার ২৭শে জুন ২০২৪ ০৩:৫৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

বিকাশমান একটি দেশের শিক্ষার মূল ভিত্তি হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা। মোট কথা একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে সম্পৃক্ত হতে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তাছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন পূর্বশর্ত হচ্ছে যুগোপযোগী ও কারিগরি জ্ঞান নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন ও তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন।

উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় যে, তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিন্তু পরিকল্পনা মাফিক নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, গবেষণা ও উন্নয়নের আঁতুড়ঘর হিসেবে তৈরি করেছে। তার পাশাপাশি উচ্চস্তরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে দেশের বিকাশমান শিল্প সেক্টরের এক নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আসলে শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের উদ্ভাবিত নতুন নতুন উদ্ভাবন এবং ইনোভেটিভ আইডিয়া শিল্প খাতের সাথে কলাব্রেট করে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে ম্যানুফ্যাকচারিং পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারলে তার বাস্তবে কোন মূল্য থাকে না।

 

তাই একেবারে প্রাথমিক শিক্ষাস্তর থেকে দেশের উচ্চস্তরের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষার উপর ভিত্তি করে কারিকুলাম প্রণয়ন ও তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে হবে। এখানে হয়ত অনেকে বলবেন যে, প্রাথমিক স্তরে কীভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে। আসলে দেশের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের আমরা সরাসরি বিজ্ঞানী কিংবা প্রযুক্তিবিদ হিসেবে তৈরি করব না কিংবা সেটা করার কোন সুযোগ নেই।

 

তবে শিশুর বয়স, জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী যাতে প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে বিজ্ঞান মনস্কো ও প্রযুক্তির উপর ইতিবাচক ধারণা ও আগ্রহ নিয়ে বেড়ে উঠে সেই দিকটি আমাদের সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে। আর এই জন্য নতুন করে প্রণয়ন করা হয়েছে শিক্ষা কারিকুলাম ২০২১। যার আলোকে প্রতিটি শিক্ষার্থী আচরণের ইতিবাচক পরিবর্তন এবং আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বেড়ে উঠে সে দিকে বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে।

 

তবে এক্ষেত্রে শুধু কিছু মূল্যায়ন এবং কিছু লোক দেখানো শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আমরা দ্বায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারি না। বিশেষ করে শিশুরা যাতে বিদ্যালয়ে হাতে কলমে বাস্তব জীবন নির্ভর শিক্ষা অর্জন করার সুযোগ পায় তা অবশ্যই নিশ্চিত করা দরকার। প্রয়োজনে শ্রেণিকক্ষে পাঠ্য পুস্তকের পাশাপাশি নতুন নতুন প্রযুক্তি এবং বৈজ্ঞানিক ধ্যান ধারণা বিদ্যালয়ে থাকা ডিজিটাল ডিভাইস যেমন ল্যাপটপ ও প্রজেক্টরের সাহায্যে শিশুর উপযোগী এবং খুব সুন্দর করে উপস্থাপন করা যেতে পারে।

 

আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে, আমাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য হচ্ছে শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, নৈতিক, মানবিক, নান্দনিক, আধ্যাত্মিক ও আবেগ-অনুভূতির বিকাশ সাধন এবং তাদের দেশাত্মবোধে, বিজ্ঞানমনস্কতায়, সৃজনশীলতায় ও উন্নত জীবনের স্বপ্ন দর্শনে উদ্বুদ্ধ করা। তার পাশাপাশি শিশু ও সকল শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ভালোবাসা, বিশ্ব নাগরিক ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে সম্পৃক্ত করার উপযোগী করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রবল আগ্রহী করে গড়ে তুলতে কাজ করে যেতে হবে।

 

সিরাজুর রহমান, সহকারী শিক্ষক ও লেখক, সিংড়া, নাটোর, বাংলাদেশ।

 

ডিবিসি/ এসএইচ

আরও পড়ুন