আন্তর্জাতিক, এশিয়া

বিতর্কিত ফোনকল ফাঁস: এক বছরের মাথায় ক্ষমতাচ্যুত থাই প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

শুক্রবার ২৯শে আগস্ট ২০২৫ ০৪:৩০:০৭ অপরাহ্ন
Facebook NewsTwitter NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক বছরের মাথায় পদচ্যুত হলেন পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা। ২০২৪ সালের আগস্টে প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হওয়া এই নেত্রী দেশটির প্রভাবশালী সিনাওয়াত্রা রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য।

কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে একটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপ তাকে ঘিরে বিতর্কের জন্ম দেয়, যা শেষ পর্যন্ত তার পদচ্যুতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

 

ফাঁস হওয়া সেই ফোন রেকর্ডে পেতোংতার্নকে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বা চাচা বলে সম্বোধন করতে শোনা যায়। ফোনালাপে তিনি নিজ দেশের সেনাবাহিনীর সমালোচনা করে বলেন, থাই সেনাদের কারণেই কম্বোডিয়ার এক সেনার প্রাণহানি ঘটেছে। এ ছাড়া তিনি হুন সেনকে আশ্বস্ত করে বলেন, "আপনার যা কিছু প্রয়োজন হবে, আমাকে বলবেন। আমি বিষয়টি দেখব।"

 

এই ফোনালাপটি এমন এক সময়ে ফাঁস হয়, যখন থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত নিয়ে তীব্র উত্তেজনা চলছিল এবং থাই জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী মনোভাব তুঙ্গে ছিল। ফোনকলটি ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তোলে যে, পেতোংতার্ন গোপনে দেশের স্বার্থ কম্বোডিয়ার কাছে বিসর্জন দিচ্ছেন। এর কয়েক মাস পরেই দুই দেশের সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়, যা থামাতে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মধ্যস্থতা করতে হয়েছিল।

 

চাপের মুখে পেতোংতার্ন জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে দাবি করেন যে, তিনি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর কৌশল হিসেবেই এমন মন্তব্য করেছিলেন। তবে তার এই ব্যাখ্যা থাই জনগণকে শান্ত করতে পারেনি।

 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১লা জুলাই থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত তার প্রধানমন্ত্রীর পদ স্থগিত করার রায় দেয়। তবে পদ স্থগিত হলেও তিনি মন্ত্রিসভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। অবশেষে, এই বিতর্কের জেরেই আজ শুক্রবার (২৯শে আগস্ট) ক্ষমতা থেকে চূড়ান্তভাবে সরে যেতে হলো তাকে। তথ্যসূত্র: সিএনএন

 

ডিবিসি/এএমটি

আরও পড়ুন