বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি অবিলম্বে বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরীতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এর অংশ হিসেবে আজ বিকেল পাঁচটায় ঢাকার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (৩ জুন) জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই কর্মসূচি ও প্রতিবাদ বার্তা জানান।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার তাঁর বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, আসন্ন বাজেট সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে বিদ্যুতের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর এক বড় ধরনের জুলুম এবং সরকার মানুষের পকেট কাটার নিষ্ঠুর খেলায় মেতে উঠেছে। তিনি বলেন, এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দামের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে; এর ওপর বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধি ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দেবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের শিল্প ও কৃষি উৎপাদন খরচ ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পাবে এবং কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাতে স্থবিরতা নেমে আসার পাশাপাশি চাল, ডাল, তেলসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আরও বাড়বে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বিদ্যুৎ খাতের সীমাহীন দুর্নীতি, অপচয় এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের খেসারত দিতেই বারবার জনগণের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে। জনগণের প্রতি সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা থাকলে এমন অমানবিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হতো না মন্তব্য করে তিনি দেশের বিদ্যুৎ খাতের সব দুর্নীতি, অপচয় ও লুটপাট বন্ধ করে জনস্বার্থ প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে, দেশের আপামর জনসাধারণের চরম দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে গণবিরোধী ও অযৌক্তিক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পাইকারি ও খুচরা, উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। চলতি জুন মাস থেকেই এই নতুন দাম কার্যকর হবে, যার বাড়তি চাপ পড়বে সব শ্রেণির গ্রাহকের ওপর।
ডিবিসি/এফএইচআর