রাজশাহীতে

বিদ্যুৎ সংযোগ দিতেই পুড়ল তিন মহল্লার টিভি-ফ্রিজ-এসিসহ বিভিন্ন ডিভাইস

রাজশাহী ব্যুরো

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার বাখরাবাজ এলাকায় বিদ্যুতের অতিরিক্ত ভোল্টেজের কারণে তিনটি মহল্লার প্রায় অর্ধেক বাড়ির টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসিসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস পুড়ে গেছে। গত সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) কর্মীরা একটি পোর্টেবল ট্রান্সফরমার চালু করলে এই বিপত্তি ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নেসকোর কর্মীদের আটকে রাখলে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করছে কাটাখালী পৌর বিএনপি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে বাখরাবাজ এলাকায় মসজিদের সামনের একটি ট্রান্সফরমার অকেজো হয়ে গেলে বাখরাবাজ মোল্লাপাড়া, মধ্যপাড়া ও স্কুলপাড়া মহল্লার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পর রাত ২টার দিকে নেসকোর কর্মীরা একটি পোর্টেবল ট্রান্সফরমার নিয়ে এসে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করেন। সংযোগ দেওয়ার সাথে সাথেই মসজিদের সামনের একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব পুড়ে যায়। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে কর্মীরা দ্রুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও তার আগেই ওই তিন মহল্লার অনেক বাড়ির বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। এরপর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বেরিয়ে এসে নেসকো কর্মীদের আটকে রাখেন এবং তাদের কয়েকজনকে মারধর করেন। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে। কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী জানান, নেসকো কর্মীদের ভুলে অতিরিক্ত ভোল্টেজ সরবরাহ হওয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে।

 

এলাকার বাসিন্দারা তাদের ব্যাপক ক্ষতির কথা তুলে ধরেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলা কমিটির আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম সাজু জানান, ক্ষতিগ্রস্তরা তার কাছে এসে অভিযোগ জানাচ্ছেন এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন। অটোরিকশা চালক মো. রাজুর চার্জে দেওয়া ব্যাটারি পুড়ে যাওয়ায় তার প্রায় ২৮ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সজল আলী ও মো. সানাসহ আরও অনেকেই তাদের টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি ও বৈদ্যুতিক বাতি পুড়ে যাওয়ার অভিযোগ করে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। কাটাখালী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম জানান, ওই তিন মহল্লায় প্রায় ৩০০টি বাড়ি রয়েছে। প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ জানতে তারা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করছেন। তালিকা সম্পন্ন হলে তারা নেসকো অফিসে গিয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন।

 

তবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন নেসকোর রাজশাহীর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৫ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, এমন দুর্ঘটনা ঘটে গেলে এতগুলো বাড়ির ক্ষতিপূরণ দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় কোনো কারণে দুটি লাইন এক হয়ে গেলে আনলিমিটেড বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে এবং এই ক্ষেত্রেও তেমনই ঘটেছে। অন্যদিকে, নেসকোর সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম চৌধুরী ও প্রধান প্রকৌশলী (অপারেশন) জিয়াউল ইসলাম জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে তাদের এই দুর্ঘটনার বিষয়ে আগে কিছুই জানানো হয়নি, তবে তারা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন