চাকরি

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মঘণ্টার হিসাব

মোমেনুল ইসলাম মমিন

ডিবিসি নিউজ

বৃহঃস্পতিবার ১৪ই এপ্রিল ২০২২ ০১:০৮:৪২ পূর্বাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

একটি দেশের কর্মীরা দিনে গড়ে কতক্ষণ কাজ করবেন তা নির্ধারণের পিছনে বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। কর্মী কোন কর্মক্ষেত্রে কতক্ষণ কাজ করছেন সেটিও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বিশ্বের সব দেশে সাপ্তাহিক কাজের গড় সময় যে এক হবে না, তা স্বাভাবিক। তবে এ নিয়ে উন্নয়নশীল এবং উন্নত দেশগুলির মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। সাধারণত দেখা যায়, এশীয় দেশগুলিতে বেশিক্ষণ অফিসে কাটাতে হয় কর্মীদের। সেই তুলনায় বেশির ভাগ ইউরোপীয় দেশের কর্মীদের কাজের গড় সময় অনেক কম।

উত্তর বা লাতিন আমেরিকার বাসিন্দারা আবার এশীয়দের তুলনায় কম সময় কাজের সুবিধা ভোগ করেন। তবে তাদের ইউরোপীয় দেশগুলির তুলনায় বেশি সময় কাজ করতে হয়।

ভারতে ১৯৪৮ সালের ফ্যাক্টরিজ অ্যাক্ট অনুযায়ী, কর্মীদের কাজের সময় সপ্তাহে গড়ে ৪৮ ঘণ্টার বেশি হতে পারবে না। দিনে ৯ ঘণ্টার বেশি কাজেরও বিধান দেওয়া হয়নি। অন্য দিকে, ওই আইনের ৫১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কর্মীদের দিয়ে সাড়ে ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যাবে না। গত বছর আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠন (আইএলও)-র একটি রিপোর্টে এই পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছিল।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে কার্যভার সামলানোর প্রথম দিনেই নতুন নির্দেশ দিয়েছেন শাহবাজ শরিফ। সরকারি কর্মীদের দিনে ১০ ঘণ্টা করে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শাহবাজের নির্দেশে সাপ্তাহিক ছুটির এ বার থেকে দু’দিনের বদলে কেবল মাত্র রবিবার ছুটি পাবেন তারা। ফলে শনিবার অফিসে আসতে হবে সরকারি কর্মীদের। 

ভারত-পাকিস্তান ছেড়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের দিকে তাকানো যাক। বেশির ভাগ দেশেই প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৪০ ঘণ্টা কাজ করার নির্দেশ বলবৎ রয়েছে। যদিও কর্মক্ষেত্রের উপরেও এই সময়ের হিসাব নির্ভর করে।

এদিকে পাকিস্তানের একেবারেই বিপরীত বিন্দুতে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার। চলতি বছর থেকে সে দেশে দৈনিক কাজের সময় কমিয়ে সাড়ে ৪ ঘণ্টা করা হয়েছে। 

কর্মক্ষেত্রে একজন কতক্ষণ সময় ব্যয় করেন? এ প্রশ্নের উত্তর বড় একটা সহজ নয়। বিভিন্ন পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখা গিয়েছে যে, উচ্চ আয়ের দেশগুলিতে গড়ে কম সময় কর্মক্ষেত্রে কাজের বিধান রয়েছে। অথচ মধ্যআয়ের বা উন্নয়নশীল দেশগুলিতে সাধারণত বেশিক্ষণ কর্মক্ষেত্রে কাটাতে হয়।

২০১৯ সালে একটি রিপোর্টে ক্যালিফোর্নিয়া এবং গ্রোনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের দাবি ছিল, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলির মধ্যে গড়ে সবচেয়ে বেশি কাজ করতে হয় কম্বোডিয়ায়। সেখানকার কর্মীদের প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৪৭.৬ ঘণ্টা কর্মক্ষেত্রে কাটাতে হয়।

কম্বোডিয়ার পরেই রয়েছে মায়ানমার (৪৭.১ ঘণ্টা), বাংলাদেশ (৪৬.৫ ঘণ্টা), সিঙ্গাপুর (৪৪.৮ ঘণ্টা), মালয়েশিয়া (৪২.৩ ঘণ্টা)।

এ তালিকায় দক্ষিণ আফ্রিকাও ঢুকে পড়েছে। সে দেশে সপ্তাহে গড়ে ৪২.১ ঘণ্টা কাজের বিধান রয়েছে। সপ্তম স্থানে রয়েছে চিন। সে দেশে প্রতি দিন গড়ে ৪১.৭ ঘণ্টা কাজ করতে হয়।


বিশ্বের কোন দেশগুলির কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে কম সময় ব্যয় করেন? ২০১৯ সালে একটি রিপোর্টে অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি)- সমীক্ষা জানিয়েছিল, এ ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে জার্মানি।

৩৮টি দেশের ওই সংগঠনের দাবি, জার্মানিতে সপ্তাহে গড়ে ২৫.৬ ঘণ্টা কাজের নির্দেশ রয়েছে। এর পরেই রয়েছে ডেনমার্ক (২৫.৯ ঘণ্টা), গ্রেট ব্রিটেন (২৬.২৯ ঘণ্টা), নরওয়ে (২৬.৩ ঘণ্টা) এবং নেদারল্যান্ডস (২৬.৯ ঘণ্টা)।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

আরও পড়ুন