গ্রিসের রায়ানএয়ার ফ্লাইট

বিমানের জানালা খুলে পড়ে যাচ্ছিলেন যাত্রী, পা টেনে ধরে জীবন বাঁচালেন স্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মাঝআকাশে ওড়ার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে রায়ানএয়ারের একটি যাত্রীবাহী বিমান। ওড়ার কিছুক্ষণ পরই বিমানের একটি জানালা পুরোপুরি খুলে যায়, যার ফলে ভেতরে তীব্র বায়ুচাপের সৃষ্টি হয়। এ সময় এক ষাটোর্ধ্ব যাত্রী জানালার বাইরে মাথার দিক দিয়ে প্রায় অর্ধেক ছিটকে বেরিয়ে যান। তবে সিটবেল্ট বাঁধা থাকা এবং স্ত্রীর বীরত্বপূর্ণ প্রচেষ্টায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন তিনি।

ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, বিমানটি উড্ডয়নের ১০ মিনিট পর হঠাৎ করেই ৯ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। স্থানীয় গণমাধ্যমকে যাত্রীরা জানিয়েছেন, তারা হঠাৎ একটি বিকট বিস্ফোরণের মতো শব্দ শুনতে পান।


গ্রিসের একটি হাসপাতালের কর্মকর্তা মিখালিস গিয়ানাকোস জানান, আহত যাত্রী একজন ৬১ বছর বয়সী সার্বিয়ান নাগরিক। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার সময় তার স্ত্রী প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে তার পা শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন, যাতে তিনি বিমানের বাইরে ছিটকে না যান।


যাত্রীরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, আক্রান্ত ব্যক্তির মাথা ও কাঁধ জানালার বাইরে চলে গিয়েছিল। পরবর্তীতে অন্যান্য যাত্রীরা মিলে তাকে টেনে ভেতরে নিয়ে আসেন। যাত্রীদের দাবি, ইঞ্জিনের কোনো অংশ ছিটকে এসে জানালাটি ভেঙে ফেলেছিল। তবে রায়ানএয়ার কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।


ক্রিস্টিনা নামের এক সহযাত্রী রেডিও থেসালোনিকিকে বলেন, আমরা সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারি যে বিমানের ভেতরের বায়ুচাপ কমে গেছে। চারদিকে চিৎকার শুরু হয়ে যায়। অক্সিজেনের মাস্কগুলো নিচে পড়ে যায় এবং একটি তীব্র গন্ধ ছড়ায়। ওই যাত্রীর মাথা ও কাঁধ জানালার বাইরে চলে গিয়েছিল। ভাগ্যিস, তিনি সিটবেল্ট খুলে ফেলেননি।


সোফিয়া নামের আরেক যাত্রী বলেন, ভেতরের চাপ এতটাই তীব্র ছিল যে মনে হচ্ছিল আমরা শ্বাস নিতে পারছি না। আহত ব্যক্তি আতঙ্কে ও অক্সিজেনের অভাবে কয়েকবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন।


এ বিষয়ে রায়ানএয়ার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গ্রিসের থেসালোনিকি শহর থেকে জার্মানির মেমিংগেনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালের ফ্লাইটটি উড্ডয়নের পরপরই ফিরে আসে। মাঝআকাশে একটি জানালা স্থানচ্যুত হওয়ার কারণেই এই জরুরি অবতরণ। বিমানটি স্বাভাবিকভাবেই অবতরণ করেছে এবং যাত্রীদের টার্মিনালে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আহত যাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং পরে অন্য একটি বিমানে যাত্রীদের গন্তব্যে পাঠানো হয়েছে।


জানা গেছে, ১৮ বছর পুরোনো এই বিমানটি রায়ানএয়ারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘মাল্টা এয়ার’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল। থেসালোনিকি বিমানবন্দরের অপারেটর ফ্রাপোর্ট গ্রিস জানিয়েছে, হেলেনিক এয়ার অ্যান্ড রেল সেফটি ইনভেস্টিগেশন অথরিটি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।


সাবেক এয়ারলাইন পাইলট ক্রিস ব্রাডি বিবিসিকে বলেন, যাত্রীটির সিটবেল্ট বাঁধা না থাকলে দুর্ঘটনাটি আরও ভয়াবহ হতে পারতো। আমরা সবসময়ই বলি, সিটবেল্ট সাইন বন্ধ থাকলেও সতর্কতাস্বরূপ সিটবেল্ট বেঁধে রাখুন। ঠিক এই ধরণের পরিস্থিতির জন্যই এটি করা উচিত।


উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইঞ্জিনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে জানালা ভেঙে এক নারী যাত্রী আংশিক বাইরে ছিটকে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি মারা যান।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন