হাসপাতালের বেডে শুয়ে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে মা-হারা শিশু মোহনা। চোখে-মুখে অজানা ভয়ের ছাপ স্পষ্ট। কথা বলতে গিয়ে বারবার আটকে যাচ্ছে, শুধুই অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকছে।
১১ বছর বয়সী মোহনার শরীরজুড়ে এখনো দগদগে ক্ষতচিহ্ন। কিছু ক্ষত শুকিয়ে এলেও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। দুর্বল শরীরে প্রতিবাদের সাহস ছিল না তার। কাজে সামান্য ভুল হলেই নেমে আসত অমানবিক নির্যাতন। তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা নীরবে সহ্য করা ছাড়া মোহনার আর কোনো উপায় ছিল না।
অথচ যত্নে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েই মোহনাকে নিজেদের বাসায় নিয়েছিলেন বিমান বাংলাদেশের এমডি শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বীথি। কিন্তু প্রতিশ্রুতির বদলে জুটেছে শুধুই নির্মমতা। শেষ পর্যন্ত এই নির্যাতনের খবর পৌঁছায় আইনের দরজায়, মামলা করে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার।
মোহনার ওপর চলা এমন অমানবিক অত্যাচারের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন তার বাবা গোলাম মোস্তফা ও প্রতিবেশীরা।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এমন একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মোহনার মতো আর কোনো শিশুকে ভবিষ্যতে এমন বর্বরতার শিকার হতে না হয়।
উল্লেখ্য, গৃহকর্মী হিসেবে কাজে নিয়ে শিশুটির ওপর বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগে কারাগারে থাকা বিমান বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুর রহমানের নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন অতিরিক্ত সচিব হুমায়রা সুলতানা।
ডিবিসি/এনএসএফ