আন্তর্জাতিক, আমেরিকা

এপস্টাইনের কুকীর্তির ইতিহাস: অভিশপ্ত 'ললিতা এক্সপ্রেস' বিমানটিতে জোর করে তোলা হত কিশোরীদের

ডেস্ক নিউজ

ডিবিসি নিউজ

রবিবার ১লা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০২:১৯:৪৫ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

জেফরি এপস্টেইনের অন্ধকার সাম্রাজ্যের কথা উঠলে প্রথমেই যে নামটি সামনে আসে তা হলো ‘লোলিতা এক্সপ্রেস’। আদতে এটি একটি বিলাসবহুল বোয়িং ৭২৭ বিমান হলেও এর আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক বীভৎস ইতিহাস।

গণমাধ্যম কর্তৃক দেওয়া এই কুখ্যাত নামটির পেছনে রয়েছে ভ্লাদিমির নাবোকভের বিতর্কিত উপন্যাস 'ললিতা'র ছায়া। এই বিমানটি কেবল যাতায়াতের মাধ্যম ছিল না, বরং এটি ছিল একটি আন্তর্জাতিক যৌন পাচার চক্রের উড়ন্ত ডায়েরি।

 

ললিতা এক্সপ্রেস' হচ্ছে জেফরি এপস্টেইনের মালিকানাধীন একটি বোয়িং ৭২৭ বিমানের নাম। এটি মূলত এপস্টেইনের যৌন কেলেঙ্কারি এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের পাচারের কাজে ব্যবহার করা হত। এটি ১৯৬৯-১৯৭৯ সালে TWA-এর অধীনে ছিল এবং পরে এপস্টেইনের ব্যবহারের জন্য পরিচিতি পায়। বিলাসবহুল এই বিমানের ভেতরে ছিল ব্যক্তিগত বেডরুম ও আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। 

 

অভিযোগ রয়েছে, এই বিমানের ভেতরেই অনেক কিশোরীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হত। বিমানটির প্রধান গন্তব্য ছিল ক্যারিবিয়ান সাগরে অবস্থিত এপস্টেইনের নিজস্ব দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমস। এসব অপরাধের সাথে জড়িত থাকার কারণে সবার কাছে 'অভিশপ্ত' হিসেবে পরিচিত ললিতা এক্সপ্রেস’। 

 

লোলিতা এক্সপ্রেসের ফ্লাইট লগ বা যাতায়াত বিবরণীর তালিকা যখন ফাঁস হয়, তখন পুরো বিশ্ব চমকে ওঠে। দেখা যায়, এই বিমানে বিভিন্ন সময়ে যাতায়াত করেছেন বিশ্বের ক্ষমতাধর রাজনীতিক, রাজপরিবারের সদস্য, এমনকি নামজাদা বিজ্ঞানীরাও। 

 

এপস্টেইনের বেশকিছু নথিতে নাম এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বিল ক্লিনটন, প্রিন্স অ্যান্ড্রু, ইলন মাস্ক, বিল গেটস, মাইকেল জ্যাকসন ও  নরেন্দ্র মোদিসহ বিশ্বের ক্ষমতার চূড়ায় থাকা বহু মানুষের। এই ফাইল ক্ষমতা, অর্থ আর শত শত নিরীহ কিশোরীর শৈশব কেড়ে নেওয়া এক সুপরিকল্পিত যৌন নিপীড়নের ভয়ানক নেটওয়ার্কের প্রামাণ্য দলিল।

 

যদিও এই বিমানে ভ্রমণ করা মানেই অপরাধী হওয়া নয়, তবে এই উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের উপস্থিতি এপস্টেইনকে এক ধরণের অদৃশ্য আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা দিয়েছিল, যা তাকে দীর্ঘ সময় ধরে এই অপরাধ চালিয়ে যেতে সাহায্য করে। 

 

২০১৯ সালে এপস্টেইনের গ্রেপ্তার ও রহস্যজনক মৃত্যুর পর এই বিমানের ইতিহাস আরও নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হয়। আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কিত এই অধ্যায়টি আজও ক্ষমতার অপব্যবহার আর চরম অনৈতিকতার এক জীবন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন