সাহিত্য

বিশ্বকবির ৮২তম প্রয়াণ দিবস আজ

ডেস্ক প্রতিবেদন

ডিবিসি নিউজ

রবিবার ৬ই আগস্ট ২০২৩ ০৫:১১:৪৩ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

আজ ২২শে শ্রাবণ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮২তম প্রয়াণ দিবস। বাঙালির জীবনের অনেকটা জুড়ে সতত বিরাজমান এ মনীষীতুল্য ব্যক্তিত্বের মৃত্যু হয় এমনই শ্রাবণের এক দুপুরে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিকর্ম বাঙালির জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে নানাভাবে।

বিশ্বকবির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতার এবং বেসরকারি টেলিভিশনগুলো এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা ও নাটক প্রচার করছে।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে বাংলা ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে মহর্ষী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘর আলো করে জন্মগ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোট গল্পকার, প্রাবন্ধিক, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। তাকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়। রবীন্দ্রনাথকে “গুরুদেব”, “কবিগুরু” ও “বিশ্বকবি” অভিধায় ভূষিত করা হয়।

শৈশবে রবীন্দ্রনাথ কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নর্ম্যাল স্কুল, বেঙ্গল অ্যাকাডেমি এবং সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে কিছুদিন করে পড়াশোনা করেন। কিন্তু বিদ্যালয়-শিক্ষায় অনাগ্রহী হওয়ায় বাড়িতেই গৃহশিক্ষক রেখে তার শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।

১৮৭৮ সালে ব্যারিস্টারি পড়ার উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে যান রবীন্দ্রনাথ। প্রথমে তিনি ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। ১৮৭৯ সালে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে আইনবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু সাহিত্যচর্চার আকর্ষণে সেই পড়াশোনা তিনি সমাপ্ত করতে পারেননি। ইংল্যান্ডে থাকাকালীন শেকসপিয়র ও অন্যান্য ইংরেজ সাহিত্যিকদের রচনার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের পরিচয় ঘটে।

তার সর্বমোট লেখার সংখ্যা- ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধ, ৯৫টি ছোটগল্প, ১৯১৫টি গান, ২০০০ চিত্রকর্ম। তার শ্রেষ্ঠ কর্ম- ছোটগল্প: কঙ্কাল, নিশীথে, মণিহারা, ক্ষুধিত পাষাণ, স্ত্রীর পত্র, নষ্টনীড়, কাবুলিওয়ালা, হৈমন্তী, দেনাপাওনা।

কবিতা: সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালি, কল্পনা, ক্ষণিকা, অক্ষমা, অঙ্গের বাঁধনে বাঁধাপড়া আমার প্রাণ, অচল স্মৃতি। কাব্যগ্রন্থ: কবি-কাহিনী, বনফুল, ভগ্নহৃদয়, সন্ধ্যা সঙ্গীত, প্রভাত সঙ্গীত, ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী, মানসী, গীতাঞ্জলি। উপন্যাস: ঘরে-বাইরে, চতুরঙ্গ, যোগাযোগ, শেষের কবিতা, বৌ-ঠাকুরাণীর হাট, রাজর্ষি, চোখের বালি, নৌকাডুবি, প্রজাপতির নির্বন্ধ, গোরা ইত্যাদি।

রবীন্দ্রনাথের উল্লেখযোগ্য কিছু গান- আমারো পরানো যাহা চায়, চোখের আলোয় দেখেছিলেম, জগৎ জুড়ে উদার সুরে, ওগো দখিন হাওয়া, দাঁড়িয়ে আছ তুমি আমার গানের ওপারে, কান্না হাসির দোল দোলানো, কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া, কণ্ঠে নিলেম গান, কবে আমি বাহির হলেম, কি গাব আমি কি শুনাব, তুমি কোন কাননের ফুল, বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল, আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে, ভালোবেসে সখি নিভৃতে যতনে, জাগরণে যায় বিভাবরী, তোমার খোলা হাওয়া ইত্যাদি।

তার দুটি গান দুটি দেশের—বাংলাদেশ ও ভারতে জাতীয় সংগীতের মর্যাদা পেয়েছে। ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ বাংলাদেশের এবং ‘জন গণ মন’ ভারতের জাতীয় সংগীত। রবীন্দ্রনাথের বিচিত্র সৃষ্টির অন্যতম প্রধান ধারা তার অসাধারণ গানগুলো।

বাংলা ভাষাকে বিশ্ব অঙ্গনে মর্যাদার আসনে বসিয়েছে তার ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের নোবেলপ্রাপ্তির ঘটনা। সাহিত্যের সীমা ছাড়িয়ে শিক্ষা, দর্শন, পল্লী ও কৃষি উন্নয়নের পাশাপাশি বহু বিষয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। উন্মুক্ত প্রকৃতির মাঝে রবীন্দ্রনাথের প্রতিষ্ঠিত ভিন্ন ধরনের শিক্ষায়তন বীরভূমের শান্তিনিকেতনে একসময় সমাবেশ ঘটেছিল নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশ্বের অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তির। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকৃতির মধ্যে রয়েছে অসংখ্য কবিতা ও গানের পাশাপাশি ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, নৃত্যনাট্য, ভ্রমণকাহিনি ও চিঠিপত্র।

১৮৮৩ সালে মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৮৯০ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গের শিলাইদহের জমিদারি এস্টেটে বসবাস শুরু করেন। ১৯০১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯০২ সালে তার পত্নীবিয়োগ হয়। তিনি ১৯১৩ সালে তার গীতাঞ্জলী কাব্যগ্রন্থের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। কবির গান-কবিতা, বাণী এই অঞ্চলের মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তির ক্ষেত্রে প্রভূত সাহস যোগায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে শুধু নয়, চিরকালই কবির রচনাসমূহ প্রাণের সঞ্চার করে।

বাংলা ১৩৪৮ সনের শ্রাবণ মাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন রবীন্দ্রনাথ। চিকিৎসকরা পরামর্শ করে ঠিক করেন, অস্ত্রোপচার করতেই হবে। ৯ শ্রাবণ (২৫ জুলাই) শান্তিনিকেতন থেকে ৮০ বছর বয়সী ভগ্নস্বাস্থ্যের কবিকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। ৩০ জুলাই জোড়াসাঁকোর বাড়িতে তার শরীরে অস্ত্রোপচার হয়। জীবনী থেকে জানা যায়, মৃত্যুর মাত্র সাত দিন আগে পর্যন্তও কবি সৃষ্টিশীল ছিলেন। জোড়াসাঁকোতে রোগশয্যায় শুয়ে শুয়ে তিনি বলতেন শান্তিনিকেতনের তরুণ আশ্রমিক (পরে লেখিকা, শিল্পী) রানী চন্দ লিখে নিতেন। অস্ত্রোপচার করা হলেও তা কাজে আসেনি। অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে থাকে। এর পর ২২ শে শ্রাবণ চলে যান না ফেরার দেশে।

ডিবিসি/ এনবিডব্লিউ


আরও পড়ুন