খেলাধুলা, ফুটবল

বিশ্বকাপের পর চাপে ইনফান্তিনো, নতুন সভাপতির দৌড়ে দুই নাম

স্পোর্টস ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

রয়টার্সের বরাত দিয়ে ‘গোল ডটকম’ জানিয়েছে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফের সভাপতি ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়লেও ইনফান্তিনোর অবস্থান বেশ শক্ত ছিল। তবে বিতর্কিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা এবং কনকাকাফ প্রকাশ্যে ওই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে।

 

উয়েফা জানায়, প্রস্তাবটি প্রত্যাহার না করা হলে তাদের ৫৫ সদস্যদেশ ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের বিষয়টি বিবেচনা করবে। নেদারল্যান্ডস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কেএনভিবি) সভাপতি ফ্রাঙ্ক পাও বলেন, ‘এই প্রস্তাব প্রক্রিয়া, সুশাসন ও বিষয়বস্তুর দিক থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। এটি অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে।’

পরে এএফসিও ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার বিরোধিতা করে। শুধু বাইরের সংগঠনই নয়, ফিফার ভেতরেও তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। ইনফান্তিনোর শীর্ষ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো এবং ফিফার অপারেশনস পরিচালক কেভিন লামুর পদত্যাগ করেন।

 

পদত্যাগের পর লামুর বলেন, ‘একজন সভাপতির কাজ হলো সবাইকে একত্র করা, ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং অনুপ্রাণিত করা। কিন্তু এখন আমরা সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখছি। এটি ফিফার প্রকল্প নয়, ফিফা বোর্ডেরও নয়; এটি একজন ব্যক্তির প্রকল্প।’ তার এই মন্তব্য স্পষ্টভাবেই ইনফান্তিনোকেই লক্ষ্য করে করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’–এর তথ্য অনুযায়ী, ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে ৪৩টি সদস্য দেশের সমর্থনই যথেষ্ট। উয়েফার ৫৫টি দেশ যখন প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে, তখন এমন উদ্যোগ বাস্তবায়নের সম্ভাবনাও বেড়েছে।

 

তবে অনাস্থা প্রস্তাব পাস হলেও ইনফান্তিনো সঙ্গে সঙ্গে পদচ্যুত হবেন না। কিন্তু তার নেতৃত্বের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন কানাডার ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি। ৬০ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা ২০১৬ সালের মে মাস থেকে কনকাকাফের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ফিফার ২০২৭–২০৩১ মেয়াদের সভাপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার শেষ সময়সীমা আগামী ১৮ নভেম্বর। নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে আগামী বছরের ১৮ মার্চ, মরক্কোর রাজধানী রাবাতে।

 

আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা ২০১৩ সাল থেকে এএফসির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ফুটবলের ভবিষ্যৎ সবসময় পরামর্শ, যৌথ সংলাপ এবং প্রতিষ্ঠিত কাঠামোর প্রতি সম্মান বজায় রেখেই নির্ধারণ করা উচিত।’

এর আগে প্যারিস সেইন্ট–জার্মেইনের (পিএসজি) সভাপতি নাসের আল-খেলাইফির নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছিল। তবে পিএসজি, উয়েফার নির্বাহী কমিটি, বিইন মিডিয়া গ্রুপ এবং ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের (ইসিএ) দায়িত্বে থাকায় তিনি ফিফা সভাপতির নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী নন।
 

ডিরিসি/আরএফই

আরও পড়ুন