চলমান ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ইরান বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে ইসরায়েলি পতাকা জব্দ করার ঘটনা ঘটেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে গত সোমবার (১৫ জুন) এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, গ্যালারি থেকে ইসরায়েলি পতাকা কেড়ে নেওয়া হলেও এর ঠিক কয়েক সারি পেছনে থাকা ফিলিস্তিনি পতাকাগুলো সরাতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ব্ল্যাক অ্যান্ড জিউইশ ইউনিটি নামক একটি অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রনি নামের এক লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দা কাঁধে ইসরায়েলি পতাকা জড়িয়ে খেলা দেখছিলেন। এ সময় অ্যাপেক্স প্রাইভেট সিকিউরিটি-র দুই কর্মী এসে তার নিরাপত্তা ও স্টেডিয়ামের নিয়মের কথা বলে পতাকাটি সরিয়ে নিতে বলেন।
ভিডিওতে রনিকে নিরাপত্তা কর্মীদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, আপনারা আমার ঠিক দুই সারি পেছনে থাকা ফিলিস্তিনি পতাকাটি কেন সরাচ্ছেন না? শুধু আমার পতাকাটিই কেন নিচ্ছেন? এখানে কি ইহুদি বিদ্বেষ কাজ করছে?
পরবর্তীতে রনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে স্পষ্ট করে বলেছিলেন-উপর মহলের (ফিফা কর্মকর্তা) নির্দেশেই শুধু তার পতাকাটি টার্গেট করা হয়েছে এবং ফিলিস্তিনি পতাকার ব্যাপারে তাদের কোনো নির্দেশনা নেই। নিরাপত্তাকর্মীরা আরও জানান, চলমান ম্যাচে যে দুটি দেশ খেলছে, কেবল তাদের পতাকাই ওড়ানোর নিয়ম রয়েছে। অথচ ম্যাচটিতে অংশগ্রহণকারী কোনো দলই ইসরায়েল বা ফিলিস্তিন নয়। এমনকি মেক্সিকো বা লেবাননের মতো অন্যান্য দেশের পতাকার ক্ষেত্রেও কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।
রনি অভিযোগ করে বলেন, স্টেডিয়ামজুড়ে নানা দেশের পতাকা ছিল। অথচ একটি উপচে পড়া স্টেডিয়ামে শুধু আমাকেই আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হলো। আমরা ভেবেছিলাম ২০২৬ সালের আমেরিকায় আছি, ১৯৩০-এর দশকের নাৎসি জার্মানিতে নয়। তবে তিনি জানান, অধিকাংশ সাধারণ নিরাপত্তা কর্মী তার প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন এবং ফিফার নির্দেশের কারণেই তারা এটি করতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপে রাজনৈতিক ও উস্কানিমূলক উপাদান সম্বলিত কোনো ব্যানার বা পতাকা প্রদর্শন নিষিদ্ধ এবং আয়োজকদের অনুরোধে যেকোনো পতাকা তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সূত্র: ফক্স নিউজ
ডিবিসি/এসএফএল