খেলাধুলা, ফুটবল

বিশ্বকাপে স্প্যানিশ ভাষা নিষিদ্ধ করে তোপের মুখে ফিফা

স্পোর্টস ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

চলমান বিশ্বকাপে কোনো একজন ফুটবলার স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলছেন, আর মুহূর্তের মধ্যেই তাকে থামিয়ে দিয়ে ইংরেজিতে কথা বলার অনুরোধ করা হচ্ছে-চলতি আসরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে বেশ কয়েকবার। আশরাফ হাকিমি, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কিংবা ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের মতো তারকাদের সংবাদ সম্মেলনেও একই চিত্র দেখা গেছে।

যখনই কোনো সাংবাদিক স্প্যানিশ ভাষায় প্রশ্ন করেছেন এবং খেলোয়াড় নিজেও সানন্দে সেই ভাষায় উত্তর দিতে চেয়েছেন, তখনই ফিফার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এসে তাদের স্প্যানিশে কথা বলা বন্ধ করতে বাধ্য করেছেন।


বিশ্বকাপের এমন অদ্ভুত ও কঠোর নিয়ম নিয়ে গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় বয়ে যায়। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমী ও গণমাধ্যমকর্মীদের এমন তোপের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হলো ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।


ব্রাজিলিয়ান প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম গ্লোবো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা এখন থেকে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক, খেলোয়াড় এবং কোচদের অবলীলায় স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলার অনুমতি দেবে। গণমাধ্যমকর্মীদের কাজের সুবিধার্থে এখন থেকে প্রতিটি সংবাদ সম্মেলনে একজন করে স্প্যানিশ অনুবাদক (দোভাষী) নিয়োজিত রাখবে ফিফা। পাশাপাশি, ফিফার নিজস্ব অফিশিয়াল অ্যাপেও স্প্যানিশ থেকে অনুবাদের সুবিধা চালু করা হচ্ছে।


আসন্ন ম্যাচগুলোর ভেন্যু ও আয়োজক দেশ হিসেবে মেক্সিকোর প্রতি সম্মান ও সৌজন্য প্রদর্শন করেই ফিফা এখন থেকে সব সংবাদ সম্মেলনে স্প্যানিশ ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে নিয়মটি কেবল তখনই প্রযোজ্য হতো, যখন ম্যাচ সংশ্লিষ্ট কোনো দলের মূল ভাষা হতো স্প্যানিশ। উদাহরণস্বরূপ, ব্রাজিল বনাম মরক্কো ম্যাচে পর্তুগিজ, আরবি, ফ্রেঞ্চ ও ইতালিয়ান ভাষায় কথা বলার সুযোগ থাকলেও স্প্যানিশের অনুমতি ছিল না।


নতুন এই নিয়মটি একদম তাৎক্ষণিকভাবে শতভাগ কার্যকর করা হয়তো সম্ভব হবে না; পুরোপুরি চালু হতে দুই-একটি ম্যাচ লেগে যেতে পারে। তবে এটা স্পষ্ট যে, তীব্র সমালোচনার মুখে ফিফা ইতিমধ্যেই তাদের আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।


ফিফার এখন মূল লক্ষ্য একটাই-ম্যাচ-পূর্ববর্তী ও ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিটি সংবাদ সম্মেলনে যেন স্প্যানিশ ভাষার উপস্থিতি অবশ্যই নিশ্চিত থাকে। কারণ, মেক্সিকো এই বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ এবং সেখানকার মূল ভাষা স্প্যানিশ। সর্বোপরি, সাম্প্রতিক সব বিতর্কের পর ফুটবল বিশ্বের ক্ষোভ প্রশমনে ফিফার সামনে এর চেয়ে বাস্তবসম্মত আর কোনো বিকল্পও ছিল না।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন