যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেশে ফেরার পর স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী ফুটবল দলকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। সোমবার মাদ্রিদের রাস্তায় প্রায় ১৮ লাখ মানুষের এক বিশাল জনসমুদ্র তাদের বীরদের স্বাগত জানায়।
২৬ জন খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফ এদিন স্পেনের রাজপরিবার এবং প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী খেলোয়াড়দের খেলার ধরন, পরিশ্রম এবং এই অবিস্মরণীয় জয়ের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের খেলা দেখতে পেরে তারা সত্যিই আনন্দিত।
আনুষ্ঠানিকতার পর পুরো দল একটি ছাদখোলা বাসে করে মাদ্রিদের প্রাণকেন্দ্রে এক উল্লাসপূর্ণ প্যারেডে অংশ নেয়। বাসটির গায়ে ফুটবলারদের ছবির পাশাপাশি 'তারকারা একসঙ্গে জ্বলে ওঠে' লেখা ছিল। খেলোয়াড়দের গায়ে ছিল "আমরাই চ্যাম্পিয়ন" লেখা শার্ট এবং তাদের হাতে ছিল বহু কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ ট্রফি। পুরো যাত্রাপথে তারা নেচে-গেয়ে ভক্তদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। প্যারেড শুরুর আগে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেন, এমন চমৎকার একটি দেশ ও আবেগপ্রবণ ভক্তদের প্রতিনিধিত্ব করা অত্যন্ত গর্বের এবং তারা দারুণ আনন্দিত।
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন মনক্লোয়া প্যালেসের কাছ থেকে শুরু করে মাদ্রিদের ঐতিহাসিক রাস্তাগুলো প্রদক্ষিণ করে বাসটি সিবেলেস স্কোয়ারে গিয়ে পৌঁছায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, সেখানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষের সমাগম হয়েছিল। প্রিয় দলকে একনজর দেখতে সোমবার সকাল থেকেই ভক্তরা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রার মধ্যে ছাতা মাথায় দিয়ে জায়গা দখল করতে শুরু করেন। সিবেলেস স্কোয়ারটি মূলত স্পেনের জাতীয় দল এবং রিয়াল মাদ্রিদের শিরোপা উদযাপনের ঐতিহ্যবাহী স্থান। সেখানে উপস্থিত দর্শকদের বিনোদনের জন্য আইতানা, আনা মেনা এবং লোলা ইন্ডিগোর মতো সংগীতশিল্পীরা পারফর্ম করেন।
রবিবারের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের করা জয়সূচক গোলের মাধ্যমে ২০১০ সালের পর নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা নিশ্চিত করে স্পেন। টুর্নামেন্টের তিন আয়োজক দেশের নেতা- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাম এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি- স্পেন দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। ছেলেদের এই বিশ্বকাপ জয়ের ফলে ২০২৩ সালে মেয়েদের বিশ্বকাপ জেতা স্পেন প্রথম দেশ হিসেবে একই সঙ্গে পুরুষ এবং নারী উভয় বিশ্বকাপ শিরোপা নিজেদের দখলে রাখার অনন্য রেকর্ড গড়ল।
ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর থেকেই মাদ্রিদ জুড়ে শুরু হয় বাঁধভাঙা উল্লাস। হাজার হাজার সমর্থক বার এবং রেস্তোরাঁ থেকে স্পেনের পতাকা গায়ে জড়িয়ে বা দলের রঙের পোশাক পরে রাস্তায় নেমে আসেন। পুয়ের্তা দেল সোল সহ রাজধানীর প্রধান চত্বরগুলোতে তারা নেচে-গেয়ে, ফ্লেয়ার জ্বালিয়ে এবং গাড়ির হর্ন বাজিয়ে উদযাপন করেন। ভিক্টর আলভারেজ নামে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ বলেন, তিনি মাত্র তিন-চার ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন, তবে দলের জন্য তিনি সবকিছু করতে প্রস্তুত। জেমা রোদেরো নামের ৫৯ বছর বয়সী এক সরকারি চাকরিজীবী জানান, তারা বাইরে না গিয়ে ঘরে বসেই অত্যন্ত আনন্দের সাথে খেলা উপভোগ করেছেন।
অনেক তরুণ ভক্তের কাছে স্পেনের পুরুষ দলের এই বিশ্বকাপ জয় এবং দেশজুড়ে এমন উন্মাদনা দেখার অভিজ্ঞতা এটাই প্রথম। তবে এই দেশব্যাপী আনন্দ উদযাপনের মাঝে একটি মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদ্রিদের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত সালামানকা শহরে বন্ধুদের সাথে উদযাপনের সময় একটি ফোয়ারার ওপর উঠলে সেটি ধসে পড়ে এক ১৩ বছর বয়সী কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
ডিবিসি/আরএসএল