বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে বহিরাগতদের প্রবেশ সীমিত করার ঘোষণা থাকলেও পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। এতে খেলা দেখার স্থানগুলো কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। একই সঙ্গে বহিরাগতদের উপস্থিতিতে অনিরাপত্তার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী।
রবিবার (১৯ জুলাই) বিশ্বকাপের ফাইনাল উপলক্ষে মেয়েদের হলের প্রবেশের সময়সীমা শিথিল করা হয়। এ সুযোগে অনেক নারী শিক্ষার্থী টিএসসি ও হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল এলাকায় খেলা দেখার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে বহিরাগতদের ভিড়ের কারণে অনেকেই হলে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী স্মৃতি আক্তার বলেন, আজ বাইরে বসে খেলা দেখার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বহিরাগতদের প্রবেশ করতে দেখে নিজেকে নিরাপদ মনে হয়নি। একদিনের জন্যও যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে এমন আয়োজনের প্রয়োজন কী?
শামসুন্নাহার হলের শিক্ষার্থী আসমা বলেন, আমরা শুধু খেলা দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বহিরাগতদের ভিড়ে পরিবেশ অনিরাপদ হয়ে গেছে। এমনিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকে, আজ পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত।
শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বহিরাগতদের প্রবেশ সীমিত করা হবে। এর অংশ হিসেবে রবিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশমুখে পুলিশ ও বিএনসিসি সদস্য মোতায়েন করা হয়।
তবে রাত ১১টার দিকে শাহবাগসহ কয়েকটি প্রবেশপথে পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, টিএসসি, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল, ভিসি চত্বর ও হলপাড়া এলাকায় খেলা দেখার স্থানগুলো দর্শনার্থীতে পরিপূর্ণ। অনেককে হল থেকে চেয়ার এনে বসতে এবং অনেকে মাটিতে কাগজ বিছিয়ে খেলা দেখতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিবিসি/এসএফএল