ফিফার বিশ্বকাপ ও অন্যান্য বড় টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার বিতর্কিত পরিকল্পনা ঘিরে সংকট আরও গভীর হয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) ইতোমধ্যেই এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। এবার পদত্যাগ করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে কর্দেইরো জানান, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাবের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। বরং শুরু থেকেই তিনি এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছিলেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এই প্রস্তাবের সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং আমি এর সম্পূর্ণ বিরোধী। এটি ফিফার সদস্য দেশগুলোর জন্য খারাপ, ফুটবলের জন্য খারাপ এবং দীর্ঘমেয়াদে খেলাটির ভবিষ্যতের জন্যও ক্ষতিকর।’
ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রধান টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের একটি সহপ্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ শেয়ার বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে ফিফার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ছোট ভাই জোশুয়া কুশনার এই বিনিয়োগ উদ্যোগের অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত।
কর্দেইরো প্রশ্ন তুলেছেন, ফিফার হাতে যখন কয়েক বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ রয়েছে এবং সংস্থাটির কোনো ঋণ নেই, তখন কেন সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের স্থায়ী অংশ বিক্রি করতে হবে।
তার ভাষায়, *“ফিফা সভাপতি নিজেই বলেছেন, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে সংস্থাটি ১৫ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করেছে। বিদ্যমান সম্পদ দিয়েই সদস্য দেশগুলোকে আরও বেশি সহায়তা দেওয়া সম্ভব। মাত্র ৪.২ বিলিয়ন ডলার তুলতে ফুটবলের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের স্থায়ী অংশ বিক্রির কোনো যৌক্তিকতা নেই।”*
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই ফুটবলের ভবিষ্যৎ বন্ধক রাখা হচ্ছে।’
সাবেক বিনিয়োগ ব্যাংকার এবং যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সহ-সভাপতি কর্দেইরোকে ২০২১ সালে ইনফান্তিনো নিজেই জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তার দায়িত্ব ছিল নতুন কৌশলগত উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া। তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস টাস্কফোর্সেও ফিফার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
এদিকে ইনফান্তিনোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বিরোধিতা ক্রমেই বাড়ছে। উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসি ইতোমধ্যেই আপত্তি জানিয়েছে। যদিও এএফসি এখনই বয়কটের হুমকি দেয়নি।
ফিফার ২১১টি সদস্য সংস্থাকে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রস্তাবটি নিয়ে মতামত জানাতে বলা হয়েছে। ইনফান্তিনো সতর্ক করে বলেছেন, প্রস্তাব গ্রহণ না করলে সদস্য সংস্থাগুলো ‘পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে’ থাকবে।
অন্যদিকে সমালোচনার মুখে ফিফা দাবি করেছে, ‘ভুল গণমাধ্যম প্রতিবেদনের কারণে’ পরামর্শ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোর মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে, যাতে তারা তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ডিবিসি/আরএফই