আন্তর্জাতিক

বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি পণ্য বর্জন: ধসের মুখে দেশটির কৃষি রপ্তানি খাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

গাজা উপত্যকায় চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের হিড়িক পড়েছে। এর ফলে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে ইসরায়েলের কৃষি রপ্তানি খাত। আন্তর্জাতিক বাজারে ইসরায়েলি পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশটির কৃষকরা এখন ‘মহাধসের’ আশঙ্কা করছেন।

গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান ১১’ এর একাধিক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

 

রপ্তানিতে ধস ও পণ্যের পচন প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারগুলোতে ইসরায়েলি ফল, বিশেষ করে সাইট্রাস (লেবু জাতীয় ফল) ও আম রপ্তানি করতে গিয়ে কৃষকরা চরম বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেক দেশ ইতোমধ্যে তাদের ক্রয় আদেশ বাতিল করেছে। ফলে মাঠেই পচে নষ্ট হচ্ছে প্রচুর পরিমাণ উৎপাদিত ফল।

 

একজন আম চাষি ‘কান ১১’কে বলেন, ইউরোপীয়রা এখন আমাদের আম নিতে চায় না। বিকল্প কোনো উৎস না থাকলে কেবল তখনই তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলে। অন্য কোনো অপশন থাকলে তারা আমাদের পণ্য এড়িয়ে চলছে।

 

লোহিত সাগরে অবরোধের প্রভাব ইসরায়েলের এই রপ্তানি সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ (হুথি) আন্দোলনের সামুদ্রিক অবরোধ।

 

গাজা গণহত্যার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে হুথিরা লোহিত সাগরে ইসরায়েল অভিমুখে যাওয়া জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে। এর ফলে জাহাজগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা রপ্তানি খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিলম্বের কারণে অনেক ফলের গুণমান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ফলে এশিয়ার বাজারগুলোতেও ইসরায়েলি পণ্যের আবেদন হারিয়ে যাচ্ছে।

 

ইসরায়েলের কিবুতজ গিভাত হাইম ইচুদ-এর বাগান ব্যবস্থাপক নিৎসান ওয়েইসবার্গ জানান, ইউরোপ থেকে একের পর এক অর্ডার বাতিল হওয়ায় তারা বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে আস্ত বাগানই উপড়ে ফেলতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

 

সাইট্রাস গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ড্যানিয়েল ক্লুস্কি জানান, যুদ্ধের আগে তারা স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলোতে বিপুল পরিমাণ ফল রপ্তানি করতেন, কিন্তু যুদ্ধের পর থেকে এখন পর্যন্ত একটি কন্টেইনারও পাঠাতে পারেননি।

 

তথ্যসূত্র প্রেস টিভি

 

ডিবিসি/এমইউএ

আরও পড়ুন