যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা চলাকালে বিশ্বশক্তির চাপের কাছে ইরান মাথা নত করবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে এই হুঙ্কার দেন তিনি।
টেলিভিশন ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, "বিশ্বশক্তিগুলো আমাদের মাথা নত করাতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে... কিন্তু তারা আমাদের জন্য যত সমস্যাই সৃষ্টি করুক না কেন, আমরা মাথা নত করব না।"
মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের নৌবহর মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলেও জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন হুমকির মাঝেই পাল্টা এই হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
এর আগে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া প্রস্তাব কয়েক দিনের মধ্যেই প্রস্তুত হবে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে জেনেভায় দুই পক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর এই খবর সামনে আসে।
গত বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, তেহরান যদি ১০ দিনের মধ্যে কোনও চুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে ‘খারাপ কিছু’ ঘটতে পারে। পরবর্তীতে তিনি এই সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ দিন করেন। এরপর শুক্রবার এক সাংবাদিক ট্রাম্পের কাছে ইরানে সীমিত সামরিক হামলার কথা ভাবছেন কি না জানতে চাইলে জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "আমি এতটুকুই বলতে পারি আমি বিষয়টি বিবেচনা করছি।"
সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শুক্রবার বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড জিব্রাল্টার প্রণালি অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে। ট্রাম্পের নির্দেশেই জাহাজটিকে ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, গত জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এর বহরে থাকা অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করেছিল।
এদিকে, জেনেভায় আলোচনার পর তেহরান জানিয়েছে, সম্ভাব্য একটি চুক্তির খসড়া জমা দিতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একে পরবর্তী ধাপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, "আমি মনে করি, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই এটি প্রস্তুত হবে এবং আমার ঊর্ধ্বতনদের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর তা স্টিভ উইটকফের কাছে হস্তান্তর করা হবে।"
আরাঘচি আরও জানান, মার্কিন আলোচকরা তেহরানকে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করতে বলেননি। তবে তার এই মন্তব্য কিছু মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা কোনও স্থগিতাদেশের প্রস্তাব দিইনি এবং যুক্তরাষ্ট্রও শূন্য সমৃদ্ধকরণের কথা বলেনি।"
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ‘এমএস নাউ’-এ প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, "আমরা এখন যে বিষয়ে কথা বলছি তা হলো ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, যার মধ্যে সমৃদ্ধকরণও রয়েছে, কীভাবে নিশ্চিত করা যায় যে এটি শান্তিপূর্ণ থাকবে এবং চিরকাল শান্তিপূর্ণই থাকবে।"
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/পিআরএএন