বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ সুপারকম্পিউটারের তালিকা TOP500-এর হালনাগাদ (৬৭তম) সংস্করণে প্রথম স্থান অর্জন করেছে চীনের নতুন প্রজন্মের ‘লাইনশাইন’ (Lineshine) সুপারকম্পিউটার। মূলত, ২৩ জুন জার্মানির হামবুর্গে প্রকাশিত তালিকায় এটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘এল ক্যাপিটান’ (El Capitan)-কে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে।
TOP500-এর তথ্য অনুযায়ী, চীনের 'লাইনশাইন' সুপার কম্পিউটিং সিস্টেমের সর্বোচ্চ গণনাগত গতি হচ্ছে ২.১৯৮ এক্সাফ্লপস (Exaflop/s)। অর্থাৎ এটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২.২ কুইন্টিলিয়নেরও বেশি গাণিতিক অপারেশন সম্পন্ন করতে সক্ষম। যেখানে বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ দ্বিতীয় স্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের এল ক্যাপিটানের পারফরম্যান্স হচ্ছে প্রতি সেকেন্ডে ১.৮০৯ এক্সাফ্লপস (Exaflop/s)।
'লাইনশাইন' সুপারকম্পিউটারটি স্থাপন করা হয়েছে শেনঝেনের ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টার (NSCS)-এ এবং এটি ডিজাইন ও তৈরি করেছে শেনঝেন ক্লাউড কম্পিউটিং সেন্টার। প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিচারে এটি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সুপারকম্পিউটার এল ক্যাপিটানের চেয়ে প্রায় ২০% বেশি গতিসম্পন্ন পারফরম্যান্স প্রদান করে।
সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই সুপার কম্পিউটিং সিস্টেমে ব্যবহৃত হয়েছে LX2 প্রসেসর, LingQi ইন্টারকানেক্ট এবং Kylin অপারেটিং সিস্টেম।
এই হাইস্পিড সুপারকম্পিউটিং সিস্টেমটিতে প্রায় ১৩.৭৯ মিলিয়ন প্রসেসর কোর রয়েছে। এটি পরিচালনায় প্রায় ৪২.২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় এবং এর শক্তি দক্ষতা প্রতি ওয়াটে ৫২.০৭ গিগাফ্লপস হতে পারে।
শুধু TOP500 তালিকাতেই নয়, উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন বৈজ্ঞানিক গণনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক HPCG বেঞ্চমার্কেও 'লাইনশাইন' প্রথম স্থান অর্জন করেছে। তবে, HPL-MxP (মিশ্র-প্রিসিশন) বেঞ্চমার্কে ফলাফল তুলনামূলকভাবে কম (৭.৯২ এক্সাফ্লপ/সেকেন্ড, যা বৈশ্বিক পর্যায়ে চতুর্থ স্থানে ছিল)।
টপ৫০০ এর হালনাগাদ (৬৭তম এডিশন) তালিকায় 'লাইনশাইন' সুপারকম্পিউটারের পাশাপাশি দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'এল ক্যাপিটান' (১.৮০৯ Exaflop/s) এবং 'ফ্রন্টিয়ার' (১.৩৫৩ Exaflop/s)। এছাড়া, আমেরিকার 'অরোরা' (১.০১২ Exaflop/s) চতুর্থ এবং জার্মানির 'জুপিটার বুস্টার' (১.০১২ Exaflop/s) রয়েছে পঞ্চম স্থানে।
আসলে, 'লাইনশাইন' সুপারকম্পিউটারটি মূলত আবহাওয়া ও জলবায়ু মডেলিং, জীবন বিজ্ঞান ও ওষুধ আবিষ্কার, মস্তিষ্ক গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রশিক্ষণ এবং জ্যোতির্বিদ্যা বা ভূমিকম্প পূর্বাভাসের মতো জটিল বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশল গবেষণার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, গত ২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো চীনা সুপারকম্পিউটার TOP500 তালিকার শীর্ষস্থান অর্জন করল। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক সুপারকম্পিউটিং গবেষণা ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় চীনের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে। তথ্যসূত্র: TOP500.org, 67th TOP500 List (June 2026)।
সিরাজুর রহমান
শিক্ষক ও লেখক
ডিবিসি/এইচএপি