ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস বা আইআরজিসি তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনে নতুন এক অধ্যায় যোগ করেছে। তারা ‘খোররামশহর-৪’ নামে একটি অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রকাশ্যে এনেছে, যা বিশ্বের যেকোনো শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম।
একই সঙ্গে মাটির গভীরে নির্মিত বিশাল এক ‘মিসাইল সিটি’ বা ক্ষেপণাস্ত্র শহরেরও উদ্বোধন করেছে দেশটির অ্যারোস্পেস ফোর্স।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এসব জানিয়েছে তেহরান টাইমস।
নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি ২ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এবং এটি ১ হাজার ৫০০ কিলোগ্রাম ওজনের বিস্ফোরক বা ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। বায়ুমণ্ডলের বাইরে এটি শব্দের চেয়ে ১৬ গুণ এবং বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় শব্দের চেয়ে ৮ গুণ গতিতে ছুটতে পারে।
ম্যানুভারেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকল প্রযুক্তির কারণে এটি মাত্র ৩০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ করতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। আধুনিক রাডার বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধকৌশলও একে পরাস্ত করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা।
ইরানের সেনাপ্রধান জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভি জানিয়েছেন, তাদের সামরিক নীতিতে এখন বড় পরিবর্তন এসেছে এবং নিছক প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে এসে তারা এখন ‘আক্রমণাত্মক নীতি’ গ্রহণ করেছেন।
২০২৫ সালের জুনে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার আলোকেই এই কৌশল পরিবর্তন করা হয়েছে। মাটির কয়েকশ ফুট নিচে পাথর ও কংক্রিটের স্তরে নির্মিত নতুন মিসাইল সিটিগুলো শত্রুর আগাম হামলা থেকে পুরোপুরি নিরাপদ থেকে পাল্টা আঘাত হানতে প্রস্তুত।
ডিবিসি/এমইউএ