সীমান্তে কড়াকড়ি ও ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন দুই দেশের বহু পরিবার। অপারেশন সিঁদুর-এর জেরে ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত বন্ধ থাকায় স্থগিত হয়ে যাওয়া বহু বিয়ের জট অবশেষে কাটল। ভারতের বিভিন্ন শহরে আগে থেকেই বাগদান সম্পন্ন হওয়া প্রায় ১৫০ জন পাকিস্তানি কনে বিকল্প ট্রানজিট রুটে ভারতে এসে পৌঁছান।
পাকিস্তান থেকে আসা সিন্ধি অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা সম্প্রদায়ের নেতা রাজেশ ঝাম্বিয়া পিটিআইকে জানান, গত বছর থেকে ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত বন্ধ থাকায় শত শত বিয়ে থমকে গিয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির জেরে ভারত ২০২৫ সালে অপারেশন সিঁদুর শুরু করার পর থেকেই সীমান্ত পারাপারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
এই পরিস্থিতিতে রায়পুর-ভিত্তিক সন্ত যুধিষ্ঠিরলাল শাদানির (পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের ঘোটকিতে অবস্থিত ঐতিহাসিক শাদানি দরবারের আধ্যাত্মিক প্রধান) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁর উদ্যোগে ভারতে থাকা পুরুষদের সঙ্গে ইতোমধ্যে বাগদান সম্পন্ন হওয়া পাকিস্তানি মহিলাদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়।
মন্দির কর্তৃপক্ষ এই তালিকাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়ে কনে ও তাঁদের পরিবারের ভারতে আসার সুবিধার জন্য ভিসার অনুরোধ জানায়। পরবর্তীতে ভারত সরকার কেবল আকাশপথে ভ্রমণের শর্ত সাপেক্ষে তাঁদের ভিসা প্রদান করে।
রাজেশ ঝাম্বিয়া জানান, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নাগপুর, রায়পুর, যোধপুর, পুনে এবং দেশের অন্যান্য শহরের জন্য নির্ধারিত প্রায় ১৫০ জন কনে ও তাঁদের পরিবার দুবাই, ওমান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ হয়ে ভারতে এসে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে কেবল নাগপুরেই ১৫ জন কনে এসেছেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই নারীরা ভারতে এসে তাঁদের হবু স্বামীর সঙ্গে মিলিত হলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি। আয়োজকদের মতে, পাকিস্তানে এখনও এমন প্রায় ৩০০ জন নারী ভারতে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। তাঁদের জন্যও দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
ডিবিসি/এমএনকে