যেখানে চারদিকে ধ্বংসস্তূপ আর মৃত্যুর মিছিল, সেখানেও একটু সুখের আশায় ঘর বেঁধেছিলেন ২০ বছর বয়সী তরুণ আহমেদ আবু সাদা। কিন্তু গাজার নিষ্ঠুর বাস্তবতায় সেই সুখ স্থায়ী হলো মাত্র ৪৮ ঘণ্টা। বিয়ের মাত্র দুই দিন পর এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় স্ত্রীকে হারিয়ে এখন নিথর ও স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন শ্রবণপ্রতিবন্ধী এই যুবক।
আহমেদ আবু সাদা শ্রবণপ্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও জীবনের প্রতিকূলতাকে জয় করতে চেয়েছিলেন। ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে পূর্ব গাজা সিটির তুফাহ এলাকায় তাদের নিজেদের বাড়িটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর সপরিবারে তারা বাস্তুচ্যুত হন। চরম অভাব আর অনিশ্চয়তার মাঝেও গত ২৭ ডিসেম্বর ওয়ালা জাহা-র সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আহমেদ। সমুদ্রতীরের পাশে একটি অস্থায়ী তাবুই ছিল এই নবদম্পতির বাসরঘর।
বিয়ের দুই দিন পর, অর্থাৎ ২৯ ডিসেম্বর গাজার ওপর দিয়ে বয়ে যায় প্রবল শীতকালীন ঝড় ও বৃষ্টি। ঝোড়ো হাওয়ায় পাশেই থাকা একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের অর্ধ-ভগ্ন দেয়াল হুড়মুড় করে তাদের তাবুর ওপর ভেঙে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় স্ত্রী ওয়ালার। যে তাবু ভালোবাসার আশ্রয়ের প্রতীক হওয়ার কথা ছিল, সেটিই হয়ে ওঠে এক বিষাদময় মৃত্যুপুরী।
আহমেদের বাবা সাদ আল-দিন আবু সাদা জানান, সেই রাতের পর থেকে আহমেদ পুরোপুরি মৌন হয়ে গেছেন। সারাদিন বিছানায় শুয়ে মোবাইলে বিয়ের ছবিগুলো দেখেন আর নীরবে চোখের জল ফেলেন।
আহমেদ যে তোশকে ঘুমান, তাতে এখনও তার স্ত্রীর রক্তের দাগ লেগে আছে।
মানসিক বড় ধরনের ধাক্কা বা ট্রমার কারণে তিনি এখন আর কারও সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না।
তথ্যসূত্র আনাদোলু এজেন্সি
ডিবিসি/এমইউএ