যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে শুল্ক ফাঁকির চেষ্টাকালে আমদানিকৃত মাছের একটি বড় চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কন্টেইনার তল্লাশি করে ১০ কার্টনে মোট ৬০০ কেজি ওজনের রুই মাছ জব্দ করা হয়। কম মূল্যের ভিন্ন প্রজাতির মাছের ঘোষণা দিয়ে উচ্চমূল্যের এই মাছগুলো ছাড় করানোর চেষ্টা চলছিল।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার যাত্রাবাড়ীর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান 'মেসার্স সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজ' এই মাছ আমদানি করেছিল। বন্দর থেকে চালানটি ছাড় করানোর দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট 'আলেয়া এন্টারপ্রাইজ'। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা চালানটিতে অভিযান চালান। এ সময় কন্টেইনার খুলে আমদানিকারকের দেওয়া ঘোষণাপত্রের সঙ্গে পণ্যের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, ঘোষণাপত্রের সঙ্গে অসামঞ্জস্য পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে চালানটি জব্দ করা হয় এবং বিস্তারিত তদন্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আটককৃত মাছের চালানটি বাজেয়াপ্ত করে নিলামের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সব ধরনের অনিয়ম ও শুল্ক ফাঁকি রোধে কাস্টমসের নজরদারি ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। এর ফলেই মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য খালাসের এ ধরনের অপচেষ্টা রুখে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
ডিবিসি/পিআরএএন