আন্তর্জাতিক

বৈঠকের আগ্রহ দেখালেন ট্রাম্প, জবাবে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের শেষের দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ফের শীর্ষ বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে তাঁর এই উদ্যোগের জবাবে পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকে চরম শীতল প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবের পরপরই নিজেদের পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া, যা ওয়াশিংটনের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি কূটনৈতিক সাফল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ট্রাম্প সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর কমিয়ে আনেন। তিনি এই মহড়াগুলোকে উত্তর কোরিয়ার জন্য শত্রুভাবাপন্ন বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।

 

ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষ দিকে শেনজেনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে কিমের সঙ্গে বৈঠকে বসার সুযোগ খুঁজছেন তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকেও শর্তহীন আলোচনার কথা জানানো হয়েছে।

 

ট্রাম্পের এই নমনীয় প্রস্তাবকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না উত্তর কোরিয়া। কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া সীমিত করার পদক্ষেপটি স্রেফ লোক দেখানো এবং উত্তর কোরিয়ার প্রতি ওয়াশিংটনের নীতি এখনও অত্যন্ত বৈরী। তিনি স্পষ্ট করে দেন, দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ক যতই চমৎকার হোক না কেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।

 

এই বিবৃতির পরপরই উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব উপকূল থেকে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি চলমান যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক মহড়ার বিরুদ্ধে পিয়ংইয়ংয়ের একটি সরাসরি প্রতিবাদ ও শক্তি প্রদর্শন।

 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন কোনো বৈঠক করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে এবার অত্যন্ত কঠিন শর্তের মুখে পড়তে হবে। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো জেনি টাউনের মতে, উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক মর্যাদা মেনে নেওয়া বা বৈরী নীতি পুরোপুরি পরিবর্তনের মতো শর্ত জুড়ে দিতে পারে। তাছাড়া চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্কের কারণে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি আগের চেয়ে অনেকটাই স্থিতিশীল। ফলে একতরফা ছাড় দিয়ে তড়িঘড়ি করে আলোচনায় বসার কোনো তাগিদ কিমের নেই।

 

ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও কড়া বার্তার পরও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কূটনীতির দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো হং মিনের মতে, পিয়ংইয়ংয়ের এই প্রতিক্রিয়া মূলত ট্রাম্পকে ভবিষ্যতে আরও নমনীয় হতে বাধ্য করার একটি কৌশল। মূলত দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানকে কোণঠাসা করে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন শর্তে আলোচনায় বসার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে চাইছে কিম প্রশাসন।

 

সূত্র: রয়টার্স

 

ডিবিসি/এমএমকে

আরও পড়ুন