আন্তর্জাতিক

বৈধ ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে গ্রিসে গিয়েও প্রতারণার শিকার হয়ে অবৈধ হচ্ছেন বাংলাদেশিরা

গ্রিস প্রতিনিধি মুন্না

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

গ্রিসে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় গিয়েও নির্ধারিত কাজ না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শতাধিক বাংলাদেশি। দালাল ও অসাধু মালিকদের প্রতারণার শিকার হয়ে প্রতিশ্রুত নিয়োগকর্তাকে খুঁজে না পাওয়ায় ভিসার মেয়াদ শেষে অনেকেই অবৈধ হয়ে পড়ছেন। নিরুপায় হয়ে এসব ভুক্তভোগী এখন আইনি সহায়তার আশায় বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বারস্থ হয়েছেন। গ্রিস থেকে মতিউর রহমান মুন্নার পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এবং অনুসন্ধানে জানা গেছে, দালাল চক্র বাংলাদেশিদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে গ্রিসের নির্দিষ্ট কোম্পানিতে ভালো বেতনের কাজের প্রলোভন দেখায়। বাস্তবে দালালরা গ্রিসের বিভিন্ন গ্রামের কৃষিজমির মালিকদের কাছ থেকে মাত্র ৫০০ থেকে ১০০০ ইউরোর বিনিময়ে কাগুজে ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করে ভিসার আবেদন করে। কিন্তু গ্রিসে পৌঁছানোর পর ওইসব নিয়োগকর্তা বা কোম্পানির কোনো বাস্তব অস্তিত্বই খুঁজে পান না প্রবাসীরা। চুক্তিভিত্তিক এই ভিসার নিয়ম অনুযায়ী, একই নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করলে ১ বছর পর পর নবায়ন করে সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত থাকা যায়। কিন্তু নিয়োগকর্তা না থাকায় নির্ধারিত সময় পার হলেই প্রবাসীরা অবৈধ হয়ে যাচ্ছেন। উপায়ান্তর না দেখে অনেকেই ইতোমধ্যে ইউরোপের অন্য দেশে পাড়ি জমাতে বাধ্য হয়েছেন।

 

প্রতারণার শিকার আসিফ মিয়া জানান, দালালের মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ টাকা খরচ করে একটি কৃষি খামারে কাজের চুক্তিতে তিনি গ্রিসে আসেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছে দেখেন ওই মালিকের কোনো খোঁজ নেই, ফলে বর্তমানে তার কাজ বা বৈধ কাগজ কোনোটিই নেই। আরেক ভুক্তভোগী ইব্রাহিম হোসেন জানান, তাকে দেশে থাকতে মাসে অন্তত ১২০০ ইউরো বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও গ্রিসে এসে দেখেন ভিসায় উল্লেখিত কোম্পানির কোনো অফিসই নেই। ১১ মাস ধরে গ্রিসে অবস্থান করা নাসিম হোসেনের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক; তিনি জানান, দালালরা এখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে এবং এক মাস পর নিয়োগকর্তা পারমিট নবায়ন না করলে তিনি পুরোপুরি অবৈধ হয়ে যাবেন। এমন পরিস্থিতিতে রনি হোসেনসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে অভিযোগ জানিয়েছেন।

 

ইতোমধ্যে অন্তত ৩০ জন ভুক্তভোগী দূতাবাসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এথেন্সস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মার্জিয়া সুলতানা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রবাসীদের এই সংকটের বিষয়টি আমলে নিয়ে মান্যবর রাষ্ট্রদূত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং সমস্যা সমাধানের জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠানো হয়েছে। এদিকে সচেতন মহল ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট মানিক হোসেন পরামর্শ দিয়েছেন, কেবল কাগজের ওপর নির্ভর না করে বিদেশে যাওয়ার আগে নিয়োগকর্তার বৈধতা, চুক্তিপত্র এবং কাজের ধরন ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

 

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা চুক্তি সই হলেও বাংলাদেশে গ্রিক দূতাবাস না থাকায় তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েই দালাল চক্র বৈধ কর্মসংস্থানের ভুয়া আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতারণার শিকার এই বাংলাদেশিরা এখন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন